fbpx
skip to Main Content
রাতজাগা শিশুদের জন্য করনীয়

বাড়িতে যখন আপনার শিশু কাঁদে তখন শুধু আপনিই নন বরং অন্যান্য সদস্য সহ সবাই চিন্তিত হয়ে পড়েন। বেশিরভাগ সময়ই হয়তো ভাবেন শিশুর ক্ষুধা পেয়েছে তাই কাঁদছে। আমরা প্রায়ই বুঝতে পারি না শিশু কেন কাঁদে। বেশিরভাগ বাচ্চারা রাতে খুব বেশি কাঁদে। সব সময় যে শিশুরা ক্ষুধার কারণে কাঁদে এটা ভাবার কোন কারণ নেই এছাড়াও আরো অনেক কারণ থাকতে পারে সে ব্যাপারে সচেতন হলেই আপনার বাচ্চাকে স্বস্তি দেওয়া সম্ভব।   কান্নার মাধ্যমে শিশু আপনাকে বুঝিয়ে দেয় যে তার আপনার সহযোগিতা প্রয়োজন। বাচ্চারা রাতে কেন কাঁদে তার মূল কারণ গুলো খুজে বের করুন এবং সে অনুযায়ী তার যত্ন নিন। শিশুর আরামের ব্যবস্থা করুন। আপনার বাচ্চার এক বছর না হওয়া পর্যন্ত আপনাকে একটু স্যাক্রিফাইস করতেই হবে। এটা যে শুধু মায়ের দায়িত্ব তা নয় বরং বাড়ির অন্যান্য সদস্যদেরকেও এই মানসিকতার অধিকারী হতে হবে। 

শিশুরা রাতে যে কারণে কাঁদতে পারে:

১) শিশুর খাবারে এলার্জি, ওভারডোজ হলে পেটে অস্বস্তি হতে পারে। ‌ শিশুরা সবসময় শুকনো থাকতে চায়। রাতে তাদের ডায়াপার, তোশক ভিজে গেলে কান্না শুরু করে। 

২) শিশুকে কখনোই ছয় ঘণ্টার বেশি একটা ডায়াপার পরিয়ে রাখা উচিত নয়। মায়েরা মনে করেন ভালো ব্র্যান্ডের ডায়াপার গুলো শিশুকে অধিক সময় ধরে শুকনো রাখে তাই ঘন ঘন ডায়াপার বদলান না। কিন্তু এতে শিশুর অসস্থি বোধ হয় তখন কেঁদে ওঠে। এছাড়াও ময়লা ডায়পার অনেকক্ষণ পরিয়ে রাখলে শিশুর ফুসকুড়ি হতে পারে।

৩) শিশুকে ঘুম পাড়ানোর সময় গায়ে হালকা সুতি কাপড় পড়াবেন যাতে করে সে নিঃশ্বাস নিতে পারে। সিনথেটিক কাপড় পড়ালে গায়ে অস্বস্তি বোধ হয় তখন শিশু রাতে জেগে উঠে কাঁদতে থাকে‌।

৪) শিশু যে রুমে ঘুমাচ্ছে সেখানে দুর্গন্ধ, বায়ু চলাচল না করা, বদ্ধ অবস্থা, অতিরিক্ত গরম বা অতিরিক্ত ঠান্ডা হলে বাচ্চা অসুস্থ বোধ করে এবং ঘুমাতে পারেনা। তখন জেগে উঠে কাঁদতে শুরু করে।

৫) শিশু অসুস্থ হলে, ডায়রিয়া হলে, ঠান্ডা লাগলে, শরীরের কোথাও যেমন নাকে, মুখে, পেটে অথবা কানে ইনফেকশন হলে সে ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না। যন্ত্রণায় ছটফট করে এবং কাঁদতে থাকে। 

উপরের কারণগুলোর ‌ ব্যাপারে বিশেষ সর্তকতা অবলম্বন করুন। আপনার বাচ্চা পুরোপুরি সুস্থ কিনা সে ব্যাপারে খেয়াল রাখুন এবং মাসে অন্তত দুই দিন তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান, চেকআপ করুন। 

রাতে শিশু কাঁদলে যা করবেন: 

১) আপনার বাচ্চাকে শেষ খাওয়ানোর সময় যদি তিন ঘণ্টা পার হয়ে যায় তাহলে একটু বুকের দুধ খাইয়ে দিন। 

২) শিশুকে আড়কোলে করে নিন এবং শান্ত করার চেষ্টা করুন। দরকার হলে তাকে কোলে নিয়ে হাঁটুন, ঘুম পাড়িয়ে দিন। তবে খেয়াল রাখবেন শিশুকে ঝাঁকি দিবেন না। ‌ এতে শিশুর ব্রেইনে রক্তক্ষরণ হতে পারে। 

৩) যদি শিশুকে ফর্মুলা দুধ খাওয়ান তবে যেটা খাওয়াচ্ছেন সে ব্যাপারে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। গরুর দুধে এলার্জি হতে পারে। এটা সনাক্ত করুন। 

৪) শিশুর তাপমাত্রা পরীক্ষা করুন।‌ তাপমাত্রা বেড়ে গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিন। আপনি যেন গভীর রাতেও পেডিয়াট্টিশিয়ান কে ফোন করে আপনার বাচ্চার জন্য করণীয় কি হতে পারে তা জানতে পারেন এই ব্যবস্থা করুন। 

৫) বাচ্চার ঘরে কখনোই অনেকের ঘুমানোর ব্যবস্থা করবেন না। শিশু জানো শব্দহীন, আরামদায়ক পরিবেশে রাতে ঘুমাতে পারে তার ব্যবস্থা করুন। 

অনেক বাবা-মা শিশুর অতিরিক্ত কান্নায় উৎকন্ঠিত হয়ে পড়েন। এতে অস্থির না হয়ে বরং আপনার শিশুকে সাহায্য করুন। সে যেন ভালো বোধ করে এবং সুস্থভাবে বেড়ে ওঠে তা নিশ্চিন্ত করুন। শিশুকে অবশ্যই নিয়মিত ডাক্তারের কাছে নিয়ে চেকআপ করাবেন এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করবেন। একটু অবহেলা, অসচেতনতা বাচ্চার জন্য পরবর্তীতে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। 

This Post Has 1,886 Comments