fbpx
skip to Main Content
সন্তানের উচ্চতার দিকে খেয়াল রাখুন

গতকয়েক মাস আগেই আমার প্রাইমারির এক বন্ধুর সাথে যোগাযোগ। তার নাম ছিল পারভেজ বাকি কেউ তাকে সে নামে ডাকতো না। তার জন্য দেয়া আমাদের এক বিশেষ নাম ছিল ‘বাটুল’ । সেদিন প্রায় পনেরো বছর পরে দেখা হয়েছিল আমরা সব বাল্যকালের বন্ধুরা এক হয়ে তাকে একটা প্রশ্ন করেছিলাম, বন্ধু তুই এত লম্বা কি করে হইলি তুইতো বাটুল ছিলি। ও হেসে দিয়েছে। এটা কাউকে উস্কানো না, বন্ধুত্বের ভালবাসা। কিন্তু অনেকেই এটা টলারেট করতে পারেনা। তাই বাচ্চাদের উচ্চতার দিকে খেয়াল রাখতে হয়।

উচ্চতার সাথে অনেক কিছুই সম্পর্কিত হয়ে থাকে। এমনকি ডিফেন্স এ সকল জবের ব্যাপারগুলো এবং সর্বশেষে ছেলে হলে পাত্রি পেতে কস্ট আর মেয়েদের কথা বাদ দেয়া হলো। তাই বাবা মায়ের উচিত একটু বিশেষ নজরদারি রাখা দরকার। আসুন কিছু খাবার দাবার আর কিছু পদ্ধতি জেনে নেই যা এপ্লাই করতে উচ্চতা মিনিমাম একটা লেবেল থাকবে।

ব্যালান্সড খাবার

আপনার সন্তানের সুস্থ,সুন্দর ও উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য চিপস, বার্গার, কোল্ড ড্রিঙ্কস এগুলো থেকে সন্তানকে দূরে রাখুন। পুষ্টিকর খাবার যেমন- মাছ, মাংস, ডিম, সয়াবিন আর ডেয়ারি প্রোডাক্ট খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এসব খাবারে প্রোটিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। এগুলো পেশি মজবুত করবে, হাড় শক্ত করে আর উচ্চতা বাড়াতে সাহায্য করে।আর লক্ষ্য রাখুন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট যেন শরীরে বেশি না যায়। কেক, পেস্ট্রি, সোডা, মিষ্টি এসব খাবার থেকে সন্তানকে দূরে রাখুন। ভিটামিন ডি আর ক্যালসিয়াম যেন শরীর পায় সেদিকে খেয়াল রাখুন। ক্যালসিয়ামের জন্য সবুজ সবজি, ডেয়ারি প্রোডাক্ট খাওয়াতে পারেন। গবেষণায় দেখা গেছে যে জিঙ্ক খুব ভালো উচ্চতা বাড়ায়। তাই জিঙ্ক আছে এমন খাবার যেমন বাদাম ও কুমড়া রাখুন খাবারে।

নিয়মিত যোগ ব্যায়াম

আপনার বাচ্চার বৃদ্ধির জন্য যোগ বা আসন খুবই কার্যকরী। এটি সম্পূর্ণভাবে আপনার বাচ্চার বৃদ্ধির খেয়াল রাখবে। আরেকটি ভালো আসন হলো চক্রাসন। এক্ষেত্রে শুরুতে বাচ্চাকে মাটিতে শুতে হবে চিত হয়ে। তারপর পা ভাঁজ করতে হবে। হাত কনুই পর্যন্ত ভাঁজ করে মাথার পেছনে কানের কাছে রাখতে হবে। এবার হাত আর পায়ের জোরে শরীর তুলতে হবে। তারপর হাত আস্তে আস্তে পেছনে এনে পায়ের পাতা ছুঁতে হবে। তখন শরীরের আকৃতি হয়ে যাবে চক্রের মতো। এটিও স্পাইনের গঠন খুব ভালো করে।

স্ট্রেচিং ব্যায়াম

স্ট্রেচিং ব্যায়াম উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য খুবই কার্যকর। আপনার সন্তানকে দেয়ালের দিকে উল্টো দিক করে পিঠে ভর দিয়ে দাঁড়াতে বলুন। তারপর হাত সামনের দিকে বাড়িয়ে স্ট্রেচ করতে বলুন। আবার একই ভাবে দেয়ালের দিকে উল্টো দিক করে পিঠে ভর দিয়ে পায়ের আঙ্গুলের উপর বসান। তারপর যতখানি সম্ভব নিজের পায়ের পেশি স্ট্রেচ করতে বলুন। এভাবে দশ বার করে দিনে দুইবার করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

আরেকটি ব্যায়াম যা খুবই উপকারী। মাটিতে আপনার বাচ্চাকে চিত হয়ে শুতে বলুন। তারপর কোমর পর্যন্ত উঠে পায়ের বুড়ো আঙুল ধরতে বলুন। এতেও কিন্তু খুব ভালো পেশি বৃদ্ধি হয়।

ঝুলন্ত প্রসেস

কমপ্লেনের সেই ঝুলন্ত বাবুর এড সবাই দেখে থাকবেন। তবে যদি প্রতিদিন মাঠে বা বাড়িতে কোনো উঁচু বার ধরে ঝুলেথাকে তবে উচ্চতা বাড়াতে খুবই কার্যকর। এটা তার স্পাইনের গঠনে খুব সাহায্য করে। পুল আপ আর চিন আপ এর মতো ব্যায়ামও করতে পারে। এসবই উচ্চতা বাড়ানোর জন্য খুবই ভালো।

সাঁতার

সাঁতারকে সারা শরীরের ব্যায়াম ধরা হয়। ব্যায়াম করুক বা নাই করুক সাঁতার কাটলে কিন্তু সব উপকার পেতে পারে। এতে হাত পায়ের সামগ্রিক ব্যায়াম হয়। তাই বাচ্চা সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে পারে। এটি একটি অন্যতম স্ট্রেচিং এক্সারসাইজও বটে।

হাটা বা দৌরানো 

আরেকটি উপকারী ব্যায়াম হলো হাটা বা দৌরানো, যা শুধু বাচ্চার জন্য নয়, আপনার জন্যও খুব লাভজনক। রোজ আপনার বাচ্চা হাটা বা দৌরানো করে এটা দেখুন আর সঙ্গে সঙ্গে আপনিও করুন। এটি আপনার সন্তানের জন্য বেশ আনন্দদায়কও হবে।

বাচ্চার বৃদ্ধির জন্য এই আটটি উপায়ই যথেষ্ট। নিয়ম করে প্রতিদিন এগুলো চর্চায় রাখুন। দেখবেন আপনার সন্তানের উচ্চতা সঠিকভাবেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

খাবার দাবারেও একটু খেয়াল রাখতে পারেন। কেননা আমাদের শরীরের নিউট্রিশন যদি ঠিকঠাক মত না পায় তবে হাড় বৃদ্ধি ও মজবুত দুটোতেই সমস্যা থাকে। তাই খাবারেও একটু যত্ন ন্তে হবে। ।

শারীরিক বিকাশে প্রোটিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রাণিজ প্রোটিন সাহায্য করে দেহের নতুন টিস্যু গঠনে এবং ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু তৈরি করতে। মাংসপেশির গঠনেও প্রোটিনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বাচ্চার ডায়েটে তাই রাখুন ডিম। বিশেষ করে ডিমের সাদা অংশ এবং সেদ্ধ বা গ্রিলড চিকেন। শারীরিক বিকাশের পাশাপাশি রোজকার কাজে এনার্জিও পাবে আপনার সন্তান।এতে করে আপনার সন্তানের নিউট্রেশন লেবেলও ঠিক থাকবে।

This Post Has 15 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!