fbpx
skip to Main Content
সন্তান জন্মের প্রথম ২৮ দিনের যত্ন

জন্মের পর থেকে ২৮ দিন পর্যন্ত শিশুকে নবজাতক বলা হয়। আর নবজাতক প্রত্যেক বাবা-মায়ের জন্য একটি উপহার স্বরূপ। শুধু তাই নয় প্রত্যেকটি পরিবারের জন্য ও আশির্বাদ হয়ে আসে প্রত্যেক নবজাতক শিশু।তাই যখনই পরিবারে নতুন সদস্য আসে সবাই তাকে নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন থাকে। এর সাথে সাথে সবাই বেশ দুশ্চিন্তায় ও থাকে তার যত্নাদি নিয়ে।মাতৃগর্ভ থেকে যখন শিশু ভূমিষ্ট হয় তখন সে পা রাখে এক নতুন পরিবেশে। এটি মানিয়ে নেওয়া ও তার পক্ষে সহজ কাজ নয়।

এইতো সেদিন পত্রিকার হেডলাইন আসছে “কয়েলের ধোঁয়াতে প্রাণ গেল নবজাতকের”। সচেতনতার অভাবে প্রাণ গেল। প্রতিটা পদক্ষেপেই খেয়াল রাখতে হবে যেমনঃ

নবজাতকের খাবার ,মায়ের ঠান্ডা/কাশি থাকলে কি বুকের দুধ খাওয়ানো যাবে কিনা, শিশু যথেষ্ট পরিমাণে দুধ পাচ্ছে কিনা, শিশুর জন্ডিস হলো কিনা, শিশুর চোখ, শিশুর ত্বক, গোসল , কাপড়, ঘুম, টিকা, পায়খানা,জ্বর হলো কিনা। এই সকল বিষয়ে আপনার চৌকস থাকতে হবে অন্যথায় শিশু যে কোন সময় সমস্যায় পতিত হতে পারে।

শিশুর জন্মের পরে প্রথম ও একমাত্র কাজ হলো মায়ের দুধ (শালদুধ) খাওয়ানো। শিশুর জন্মের তিন দিনের মধ্যে নবজাতককে গোসল করানো যাবে না। নাভি না শুকানো পর্যন্ত ডাক্তাররা সাধারণত শিশুর গোসল দিতে বারণ করে থাকেন। ততদিন পর্যন্ত শিশুর গা নরম ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে দেওয়া যেতে পারে। নবজাতকের স্বাভাবিক ওজন হলো ২.৫ কেজি। শিশু জন্মের পরে নবজাতককে মধু বা চিনির পানি খাওয়ানো ঠিক নয়। শিশু জন্মের পর মাকে বেশি করে পানি খেতে হবে। জন্মের পর থেকে ২৮ দিন পর্যন্ত বয়সী নবজাতককে যে ঘরে রাখা হয়, অনেকে সেই ঘরের দরজা–জানালা বন্ধ করে রাখে। এটা করা কখনোই ঠিক নয়। নবজাতক ও মাকে যে ঘরে রাখা হয়, সেই ঘরের দরজা–জানালা খোলা রাখা উচিত। যাতে বাইরের আলো–বাতাস ঘরে আসতে পারে।

নবজাতকের খাবার এবং ঘুম এই দুটো খুবই সেনসিটিভ ইস্যু। কেননা শারীরিক বিকাশ ও মানসিক বিকাশ দুটোই মিশে আছে এর সাথে। এটি আসলেই একটি চ্যালেঞ্জের কাজ। শিশুকে সঠিক সময়ে খাওয়ানো খুব গুরুত্বপূর্ণ। নবজাতককে প্রতি ২ থেকে ৩ ঘণ্টায় খাওয়ানো উচিত, যার অর্থ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আপনাকে ৮-১২ বার দুধ খাওয়াতে হবে। কমপক্ষে ১০ মিনিট ধরে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান। বাচ্চাকে খাওয়ানো হয়ে গেলে, তাকে ঢেঁকুর তোলাতে হবে। খাওয়া শেষে শিশুর চিবুক আপনার কাঁধে এলিয়ে দিন। আপনার অন্য হাত দিয়ে খুব আস্তে আস্তে তার পিঠে টোকা দিন বা চাপড়াতে থাকুন যতক্ষণ না সে ঢেঁকুর তোলে। ঢেঁকুর দিলে বুঝবেন খাবার ঠিকঠাক মত তার পাকস্থলীতে পৌছেছে।

নবজাতক সাধারণত প্রথম কয়েকদিন দিনে প্রায় ১৮-২০ ঘন্টা ঘুমায়। এটাই স্বাভাবিক। এবং অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় সারাদিন নিজে তো ঘুমায়, কিন্তু রাতে মাকে ঠিকভাবে ঘুমাতে দেয় না। এ কারণে ভালো হয় যদি মা তার নিজের ঘুমের রুটিনও বাচ্চার সাথে মিলিয়ে নেয়। অর্থাৎ বাচ্চা যখন ঘুমাবে তখন মাও ঘুমাবে এবং বাচ্চা যখন জাগবে তখন মাও জাগবে। মায়ের বিশ্রাম অত্যন্ত জরুরি। এজন্য পরিবারের সহযোগিতা জরুরি। কিছুদিন পর বাচ্চার রুটিন ঠিক হয়ে যায় এবং মায়ের কষ্টও কমে যায়।

 

শিশু দিনে প্রায় ৭/৮ বারের বেশি প্রস্রাব করে আর এ সময় নিয়মিত ডায়াপার পরিবর্তন করা উচিৎ । এর  সাথে সাথে শিশুকে নিয়মিত মাসাজ করা প্রয়োজন। কেননা শিশু সারাদিন বিছানায় শুয়ে থাকে তাই মাসাজ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হাতে অল্প পরিমাণে শিশুর তেল বা লোশন ছড়িয়ে নিন। তারপর, আস্তে আস্তে এবং ছন্দময় গতিতে তার শরীরে টোকা দিন। মালিশ করার সময় তার চোখে চোখ রাখুন এবং তার সাথে কথা বলুন। বাচ্চাকে মালিশ করার ভালো সময় হল তার গোসলের আগে। কখনো আপনার বাচ্চাকে ঝাঁকাবেন না, কারণ তার অভ্যন্তরীণ অঙ্গ কমলীয়, জোরে ঝাঁকালে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। প্রতিদিন কিছুক্ষণের জন্য আপনার বাচ্চাকে উপুড় করে শুইয়ে রাখুন। এটি তার ঘাড় এবং পিঠের পেশীকে শক্তিশালী করবে। এটি তার দৃষ্টিকেও উন্নত করবে, কারণ সে উপরের দিকে ও পাশের দিকে দেখতে পাবে।

নবজাতক প্রথমবার পায়খানা করতে ২৪ ঘন্টা সময় নিতে পারে।এরপর থেকে দিনে ৩বার থেকে শুরু করে ৩/৪ দিনে একবার করে পায়খানা করতে পারে। প্রথম এবং তার পরবর্তী কয়েকবার পায়খানা কালো হতে পারে। এটা স্বাভাবিক। প্রথম ৬ মাস (যখন বাচ্চা শুধু বুকের দুধ খায়) পায়খানা সাধারণত নরম হয়ে থাকে এবং পায়খানার রঙও বিভিন্নরকম হয়ে থাকে। ৬ মাস বয়স হওয়ার পর থেকে যখন শিশু বড়দের মত খাবার খাওয়া শুরু করে তখন পায়খানাও বড়দের মত হয়ে যায়।

নবজাতকের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আপনাকে অবশ্যই টিকার বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। কেননা মায়ের শরীরে কোন রোগ থাকলে সেটা শিশু অনায়াসে পেয়ে থাকে জন্মগত ভাবেই। মায়ের প্রথম বুকের শালধুদ হলো প্রথম টিকা। নবজাতকের রোগ প্রতিরোধের জন্য এটা জরুরি। এছাড়া আমাদের ইপিআই (EPI) শিডিউলএ থাকা BCG টিকাটিও জন্মের পর যতদ্রুত সম্ভব হয় দিয়ে দিলে ভাল। যদিও সাধারণত ৬ সপ্তাহ বয়স থেকে বাকিসব টিকার সাথেই এটাকে দেয়া হয়ে থাকে। বিসিজি টিকাটি যক্ষা (Tuberculosis)  থেকে প্রতিরক্ষা দেয়।

অন্যদিকে, যদি মায়ের হেপাটাইটিস বি ভাইরাস ইনফেকশন থাকে সেক্ষেত্রে হেপাটাইটিসের টিকাও জন্মের পর পরই দিয়ে দিতে হয়। বিস্তারিত জানতে আপনার চিকিৎসকের সংগে ডেলিভারির আগেই আলোচনা করে নিন।

এখানে আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা যায়।  যদি মায়ের রক্তের গ্রুপ নেগেটিভ [যেমন- A negative, B negative, AB negative বা O negative) এবং নবজাতকের রক্তের গ্রুপ পজিটিভ  (A positive, B positive, AB positive বা O positive) হলে প্রত্যেকবার প্রসবের পর পরই মাকে একটা ইনজেকশন দিতে হয় (anti-D)। এটা না দেয়া হলে পরবর্তী বাচ্চার জন্মের পর পর  তীব্র জন্ডিস হতে পারে। এমন কি জন্মের আগেই জন্ডিস হয়ে বাচ্চা মায়ের গর্ভেই মারা যেতে পারে।

আপনার নবজাতক সুস্থ থাকুক এটাই আমাদের কামনা। আমাদের দেশের প্রতিটা ঘরের প্রতিটা শিশুই যেন জন্মের পর থেকেই সুস্থ জীবন লাভ করে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। প্রত্যেক বাবা-মায়ের প্রতি এটাই আমাদের বলা, আপনার সন্তানের যত্ন নিন, আপনার সন্তান সুস্থ থাকুক সুস্থ থাকুন এবং সুস্থ থাকুক আমার দেশ।

This Post Has 4 Comments
  1. hello my lovely stopforumspam member

    Welcome to Grosvenor Casinos, where you can play a wide range of casino games, from slots to poker, blackjack, and roulette! There’s something for everyone here – become a member of the casino to have the best of online casino gaming. Our Sportbook offers a range of sports betting odds and is available for pre event or in play bets 24/7 and 365 days of the year. Whether you’re here for football tournaments or the latest betting odds for horse racing, Tennis, Golf, Cricket and even Rugby Union, you are covered.

  2. hello my lovely stopforumspam member

    What are the Types of Loans in Ohio depending on the purpose
    Specific purpose payday loans in Ohio. Funds received in debt may be spent only for a specific purpose specified in the loan agreement.
    Non-purpose loan. The debtor may spend the money received at his discretion.
    Most popular specific purpose payday loans in Ohio are:

    House loan. The most common, of course, is a mortgage when the purchased property acts as collateral for a loan. Sometimes a youth loan is issued, with lighter conditions for debtors. Still quite common is a housing loan that does not imply purchased housing in the form of collateral.
    Car loan – payday loans in Ohio to a car or similar vehicle. The key is often the purchased goods, making the terms of the loan better. Also, loan conditions are improved: car insurance, life and health insurance of the borrower, and receiving a salary to the account of the creditor bank.
    Land loan. To purchase a plot for construction or agricultural activities.
    Consumer. For purchases in modern supermarkets, equipment stores, you can take a personal loan right at the point of sale. Often, specialists located there can contact the bank and get a regular or fast payday loans. Borrowed funds automatically pay for the goods, and the consultant explains when and how to re-pay the debt.
    Educational loan. It is issued to students, as well as to applicants who have passed the competition, to pay for tuition at universities, colleges, etc.
    Broker loan. For the circulation of securities, payday loans in Ohio are issued to an exchange broker, se-curities are purchased securities.
    Others. Objectives not related to those listed, but agreed and approved by the creditor.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!