fbpx
skip to Main Content
২ মাস বয়সি শিশুর যত্ন

বাঙালির পুরাতন প্রবাদ “না কাঁদলে মা-ও দুধ খেতে দেন না”। এ কথার পক্ষে বিপক্ষে আমাদের কোন আলোচনা নেই। তবে আমরা শুধু বলতে পারি এই ‘না কাঁদলে মা দুধও খেতে দেন না’ এটার সময় এইতো সন্মের পর থেকে বছর খানিক। এই পর্যন্তই কেবল শিশুরা ইশারা করতে পারেনা । তাই বাচ্চার বয়স যখন ২-মাস হয় তখন সে একটু একটু দ্রুত হাত পা চালানো শিখতে থাকে। তখন থেকেই সে পই-পই করে একে অকে দেখতে থাকে আর ভাবে কোথায় এলাম আমি। তার কান্না ছাড়া আর কোনই সাংকেতিক আলামত সে ব্যবহার করতে পারেনা। এই কান্নার মাধ্যমেই মা বুঝতেপারেন আমার শিশুর ক্ষুদা লেগেছে আর বুঝতে পারেন প্রশ্রাব বা পায়খানা করেছে ইত্যাদি।

সকল বাচ্চারই গ্রোথ সিস্টেম এক নয়। কোন কোন বাচ্চা আছে তারা দুই মাসেই বেশ পরিবর্তন নিয়ে আসে । আপনার বাচ্চার মাঝে সেই পরিবর্তন না দেখলে আপনার হতাশ হওয়ার কোন কারন নেই। দু-মাস বয়সি বাচ্চার ক্ষেত্রে আপনি যে বিষয় গুলোতে নজর দেবেন, খাবার খাওয়া মানে দুধ পান, তার পায়খানা প্রশ্রাব, তার শরীরের বাহির অংশে কোথাও ময়েশ্চারের কমতি আছে কিনা । তারপর প্রতিবার দুধ খাওয়ানোর পরে বাচ্চার জামা পালটে ফেলা। নিয়মিত ডায়াপার চেঞ্জ করা।

তারপর অনেকে বাচ্চার খাবার নিয়ে চিন্তিত থাকে কিন্তু ছয় মাস বয়স পর্যন্ত বুকের দুধই যথেষ্ট। এক ফোঁটা পানি দেওয়ারও প্রয়োজন নেই। ক্ষুধা মিটছে না ভেবে কৌটার দুধ (ফর্মুলা মিল্ক) কিংবা গরুর দুধ দেওয়ার মতো ভুল করা যাবে না। এগুলো শিশুর জন্য ক্ষতিকর। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নবজাতক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. তোফাজ্জল হোসেন খান জানালেন, ২৪ ঘণ্টায় ৮-১০ বার শিশুকে দুধ পান করালে, অন্তত ছয়বার শিশু প্রস্রাব করলে, নিয়মিত ওজন বৃদ্ধি পেলে বুঝবেন শিশু পর্যাপ্ত দুধ পাচ্ছে। এই বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কোন কারন নেই।

নবজাতকদের প্রায়ই পায়খানা হয়, কখনো কখনো প্রথম মাসে দিনে 5 বার পর্যন্ত পায়খানা হতে পারে, তবে আপনি যদি ওকে শুধুই বুকের দুধ খাওয়ান তাহলে সম্ভবত এটা পেটের গোলমাল নয়৷ কখনো কখনো ছোট্ট শিশুরা প্রত্যেকবার বুকের দুধ খাওয়ার পরে পায়খানা করে৷ তার কারণ তার পেট যেই দুধে ভরে যায় ওর বেগ আসে৷ যেসব শিশু বুকের দুধ খায় সাধারণত তাদের পায়খানা হলদেটে হয় ও মিষ্টি গন্ধ হয়, এবং নরম হয়৷ 1 মাস বয়সে পৌঁছে বেশির ভাগ শিশুর দিনে 1 বা 2 বার পায়খানা হয়৷ কখনো কখনো যেসব শিশু বুকের দুধ খায় তারা সারা সপ্তাহে মাত্র একবার মলত্যাগ করে৷ এটাও স্বাভাবিক৷

6 মাস বয়সে যখন আপনার শিশু শক্ত খাবার খেতে শুরু করলে তখন ওর পায়খানায় পরিবর্তন হতে পারে৷ তবে আপনার শিশু একবার তার নতুন খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে গেলে তার মল আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়৷ যেকোন বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করা যাবেনা। যদি আপনার বাচ্চার মাঝে কোন পরিবর্তন দেখেন তবে আপনি অনলাইনে ফোন দিয়ে ডাক্তাররের কাছ থেকে পরামর্শ নিতে পারেন।

তাছারা সব শিশু কখনো না কখনো অসুস্থ হয়৷ আপনার শিশুকে অসুস্থ দেখে আপনার মন খারাপ হয়ে যায়, তবে ওর সঠিক যত্ন করে ও চিকিৎসা করিয়ে এবং ওকে ভালো করে খাইয়ে আপনি ওকে সুস্থ হয়ে উঠতে সাহায্য করতে পারেন৷

যেহেতু আপনার শিশুর বয়স ২ মাসের মধ্যে তাই, আপনার বুকের দুধ ওকে সেরে উঠতে সাহায্য করবে৷ আপনার বুকের দুধ ওর জন্য স্বাস্থ্যকর৷ এটা আপনার শিশুর শক্তিবৃদ্ধিতে সাহায্য করবে৷ যদি আপনার শিশুর পাতলা পায়খানা হয়, বুকের দুধ ওর পেটের পক্ষে ভাল হবে, অসুস্থতার ফলে ওর যে পুষ্টিক্ষয় হচ্ছে সেই পুষ্টি ফিরিয়ে দেয়৷

এছাড়া আপনার শিশুর বয়স যেহেতু দুই মাস, সেক্ষেত্রে বাহির থেকে কেউ আসলেই তাকে কোলে নিতে দেবেন না। অবশ্যই তাকে হাত মুখ ধুয়ে তারপর বাচ্চার কাছে আসতে দেবেন। বাচ্চার বয়স দু’মাস তাই সে এখনো এমন একটা পরিস্থিতিতে আছে যেখানে অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাইরাস ব্যাক্টেরিয়াও তাকে আক্রমণ করতে পারে। এর বাচ্চাকে সন্ধার পরে পরে বাহিরে নেয়ার কথা ভাববেবন না। বাচ্চাদের যত্নে অবশ্যই এটা খেয়াল রাখবেন। আশা করি আপনি ও আপনার বাচ্চা সুস্থ থাকবেন।

This Post Has One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!