fbpx
skip to Main Content
আমরা পেঁয়াজ কেন খাই

আমরা পেঁয়াজ  কেন খাই এর কারন হলো পেঁয়াজ  স্বর্গ থেকে আসা এক সবজি।আসুন পেঁয়াজ  খাওয়া শুর হয় কবে থেকে তার একটু ঘটনা শুনাই। মুসলিম ধর্ম গ্রন্থ আলকোরানে আছে , যখন পৃথীবিতে স্বর্গীয় খাবার আসত আর তা ছিল একটু মিষ্ট। অনেক দিন  সেই স্বর্গীয় খাবার খেয়ে তাদের কেমন একঘেয়ে লাগছিলো। তারপর সেই সময় তখনকার মানুষেরা আল্লাহর কাছে দাবি করলেন আমরা এই খাবার খাবোনা আমাদের কে পৃথিবীতে খাবার দাবার বানিয়ে খাওয়ার উপকরন দিন। এর পরেই আল্লাহ তায়ালা পেঁয়াজ  রসুন এইধরনের যা যা আছেন সবই দিলেন আর তারপর থেকেই মানুষ পেঁয়াজ  খায়।

তাই যেহেতু স্বর্গ থেকে মানুষেরই আবদার করা এই সবজি অবশ্যই এর মহৎ গুণ রয়েছে। তাই আমরা বাসায় তরকাড়িতে নিয়মিত পেঁয়াজ খাই । এভাবেই প্রতিদিন আমাদের শরীরে একটু একটু করে ইমিউন মজবুত হয়। আসুন নিয়মিত পেঁয়াজ খেলে আমরা কি কি উপকার পেতে পারি তা একটু জেনে নেইঃ

পেঁয়াজের রাসায়নিক উপাদানঃ পেঁয়াজে আছে ভিটামিন বি১ (থায়ামিন), বি২ (রিবোফ্লাবিন), বি৩ (নিয়াসিন), বি৫ (প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড), বি৬, বি৯ (ফোলেট) ও ভিটামিন সি।

১. মুখের ব্যাকটেরিয়া দূর করে: কাঁচা পেঁয়াজ খেলে মুখ গহ্বরের উপস্থিত ব্যাকটেরিয়াগুলি মরতে শুরু করে। ফলে মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়। সেই সঙ্গে মাড়িতে নানাবিধ রোগ হওয়ার আশঙ্কাও কমে।

২. খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়: শরীরে ভাল কোলেস্টেরল বা এইচ ডি এল-এর মাত্রা বাড়িয়ে একদিকে যেমন শরীরকে চাঙ্গা রাখে, তেমনি অন্যদিকে খারাপ কোলেস্টরলের পরিমাণ কমিয়ে হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। এই ভাবে নিজের বিশেষ ক্ষমতা বলে পেঁয়াজ আমাদের আয়ু বাড়াতে বিশেষভাবে সাহায্য করে থাকে।

৩. জ্বরের প্রকোপ কমায়: শুতে যাওয়ার আগে একটা পিঁয়াজ কেটে নিন। তার সঙ্গে অল্প করে আলু এবং ২ টো রসুনের কোয়া মিশিয়ে মোজার মধ্যে রেখে সেই মোজা পরে শুয়ে পড়ুন। এমনটা কয়েকদিন করলেই দেখবেন সুস্থ হতে শুরু করেছেন।

৪. ডায়াবেটিসের মতো রোগকে দূরে রাখে: একেবারে ঠিক শুনেছেন! ২১ শতকের সব থেকে ভয়ঙ্কর এই রোগকে দাবিয়ে রাখতে পেঁয়াজের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে এই সবজিটিতে উপস্থিত বেশ কিছু উপদান রক্তে শর্করার মাত্রাকে বাড়তে দেয় না। সেই সঙ্গে ইনসুলিনের ঘাটতি যাতে দেখা না দেয়, সেদিকেও খেয়াল রাখে। ফলে ডায়াবেটিসের প্রকোপ বৃদ্ধির সুযোগই থাকে না।

৫. ইনসমনিয়ার মতো রোগের প্রকোপ কমায়: আপনি কি রাতের তারা? ঘড়ীর কাঁটা সকালের দিকে এগিয়ে গেলেও চোখের পাতা এক করতে পারেন না? তাহলে তো প্রতিদিনের ডায়েটে পেঁয়াজের থাকা চাইই চাই। কারণ ইনসমেনিয়ার মতো রোগের উপশমে এই সবজিটি দারুন কাজে আসে।

৬. পুড়ে গেলে কাজে আসে : রান্না করতে গিয়ে হাত পুড়ে যাওয়ার ঘটনা গৃহিণীদের সঙ্গে আকছারই হতে থাকে। এক্ষেত্রেও পিঁয়াজ দারুন উপকারে লাগে। কেমন ভাবে? এবার থেকে পুড়ে গেলে, ক্ষতস্থানে এক টুকরো পিঁয়াজ কিছু সময়ের জন্য রেখে দিন। অল্প সময়েই দেখবেন জ্বালা ভাব কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতও সেরে গেছে।

৭. আঁচিল দূর করে: গোল করে পেঁয়াজ কেটে আঁচিলের উপর রেখে একটা কাপড় দিয়ে বেঁধে দিন। যাতে সেটি পরে না যায়। প্রতিদিন রাতে শুতে যাওয়ার আগে এমনটা করলে অল্প দিনেই দেখবেন আঁচিল খসে পরে গেছে।

৮. স্মৃতিশক্তির উন্নতি ঘটায়: সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র অনুসারে নিয়মিত কাঁচা পেঁয়াজ খেলে ব্রেন পাওয়ার বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ফলে স্মৃতিশক্তির যেমন উন্নতি ঘটে, তেমনি নার্ভাস সিস্টেমের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে একাধিক ব্রেন ডিজিজ হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।

৯. ক্যান্সারের মতো রোগকে দূরে রাখে: ব্রেন, কোলোন এবং ঘারের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা একেবারে শূন্যতে এসে দাঁড়ায় যদি প্রতিদিন পেঁয়াজ খাওয়া যায়। কারণ এই সবজিটিতে উপস্থিত বেশ কিছু উপাদান শরীরের অন্দরে ক্যান্সার কোষের জন্ম হতে দেয় না। ফলে এমন ধরনের মারণ রোগ ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারে না।

১০.কাশির প্রকোপ কমায়: একটা পেঁয়াজকে কেটে নিয়ে তার রস সংগ্রহ করে নিন। তারপর তাতে কয়েক ড্রপ মধু মিশিয়ে এই মিশ্রন দিনে কম করে দুবার পান করলেই কাশি কমে যেতে শুরু করবে।

১১. মল অপরিষ্কার হলে: এক টেবিল চামচ পেঁয়াজের রস, সমপরিমাণ গরম পানি মিশিয়ে পান করলে পেট পরিষ্কার হবে। এটা দুপুরের খাবারের পরে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

১২. অ্যাজমার সমস্যা: যাঁদের অ্যাজমার সমস্যা আছে, তাঁরা নিয়মিত দুবেলা এক চা–চামচ করে পেঁয়াজের রস খেলে অ্যাজমার সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। বিশেষ করে রাতে শোবার আগে এক কাপ গরম পানিতে এক চা–চামচের চার ভাগের এক ভাগ হলুদের গুঁড়া, এক চা–চামচ পেঁয়াজের রস মিশিয়ে খেলে অ্যাজমাজনিত সমস্যার উপকার পাবেন।

১৩. অর্শ: অর্শের কারণে রক্ত পড়তে থাকলে শরীর দুর্বল হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে ১ চা–চামচ পেঁয়াজের রস সমপরিমাণ পানি মিশিয়ে খেলে ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাবে। দুপুরে সবজি, সালাদে পেঁয়াজসহ খেতে পারলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমতে থাকবে এবং পায়ুপথের যেকোনো সমস্যাই সমাধান হতে থাকবে।

১৪. বিষফোড়া ফাটাতে: যেকোনো জায়গায় হোক না কেন, ফোড়া টন টন করছে, কিন্তু ফাটছে না। পেঁয়াজের রস একটু গরম করে লাগিয়ে দিলে ওই বিষফোড়া ফেটে যাবে।

১৫. যৌন ইচ্ছা বৃদ্ধি করে :‌ মানুষের যৌন ইচ্ছা বৃদ্ধি করে পেঁয়াজ। প্রতিদিন এক টেবিল চামচ পেঁয়াজ ও এক চামচ আদার রস মিশিয়ে খেয়ে নিন। দিনে তিনবার। আপনার যৌন ইচ্ছা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।

This Post Has 17 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!