fbpx
skip to Main Content
জ্বর হলে কেন আনারস খায়?

নানী দাদীদের আমল থেকে জ্বর আসলে একটা সহজ টোটকা দেয়া হতো, সেটা হলো আনারস। আর মহৌষধ এখন পর্যন্ত একই ভাবে চলে আসছে। প্রাকৃতিকভাবে জ্বর ভেতর থেকে ভালো করবার অসাধারণ গুন সত্যিকারভাবেই এই জাদুকরী ফলটির আছে।
আনারসের জুস যেকোনো তরল ওষুধের (সিরাপ) তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি কার্যকর। ডার ফার্মা কেমিকা সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, এই জুস সেবনে রোগী সেরেও ওঠেন তুলনামূলক দ্রুত।

এই সময়ে ভাইরাসজনিত জ্বরে ভুগছেন অনেকে। ডেঙ্গু, জন্ডিসসহ যে কোনো ভাইরাসজনিত জ্বরকে ‘ভাইরাস জ্বর’ বলা হলেও সাধারণভাবে লোকজন ভাইরাস জ্বর বলতে ‘ফ্লু’কেই বোঝায়। এ জন্য প্রধানত দায়ী ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ ভাইরাস।

এই জ্বর হলে শীত শীত ভাব, মাথাব্যথা, শরীরে ও গিরায় ব্যথা, খাওয়ায় অরুচি, ক্লান্তি, দুর্বলতা, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া, চুলকানি, কাশি, অস্থিরতা ও ঘুম কম হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে পেটের সমস্যা, বমি ও ডায়রিয়া হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে টাইপ ‘বি’ ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সংক্রমণে পেটব্যথাও হতে পারে।

জ্বরে শুধু ওষুধ খেলেই হবে না। জ্বর সারাতে আনারস খুবই কাজে দেয়। তাই জ্বরে আনারস জুস খেতে পারেন।

আনারস ভিটামিন এ, বি ও সি এর একটি উৎকৃষ্ট উৎস। এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাসিয়াম, ব্রোমেলেইন, বিটা-ক্যারোটিন, মিনারেল, শর্করা, ফাইবার, আয়রন, প্রোটিন ও সহজপাচ্য ফ্যাট খুবই অল্প পরিমাণে। এছাড়া প্রতি কেজি আনারস থেকে প্রায় ৫০০ ক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়।

আনারসে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি বিদ্যমান থাকায় এবং এতে ফ্যাট-এর পরিমাণ একেবারেই কম হওয়ায় এই ফল ওজন কমাতে সহায়ক। এটি রুচিবর্ধক ফল। তাই, মুখে রুচি না পেলে আনারস খান। খাবার যদি ঠিকভাবে হজম না হয় তবে শরীরে নানারকম সমস্যা দেখা দেয়। আর এই হজমশক্তি বাড়াতে আনারস বেশ কার্যকরী। আনারসে ব্রোমেলিন নামক এনজাইম থাকে যা হজমশক্তিকে উন্নত করতে সাহায্য করে। তাই বদহজম বা হজমজনিত যে কোনো সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আনারস খান। উপকার মিলবে।
এতে প্রচুর ক্যালসিয়াম, মিনারেলস, ম্যাংগানিজ ও ভিটামিন থাকে। মুখের ভেতরের জীবাণুর আক্রমণ রোধ করে। সারা দিনের ক্লান্তি দূর করবে। আনারস খেতে পারেন জুস করে কিংবা সালাদে।

জিহ্বা, তালু, দাঁত, মাড়ির যে কোনো অসুখের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আনারস।

এতে রয়েছে ব্যথা দূরকারী উপাদান। আনারস কৃমিনাশক। কৃমি দূর করার জন্য খালি পেটে (সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে) আনারস খাওয়া উচিত।

আমাদের হাড় সুস্থ রাখতে সাহায্য করে আনারস। এতে আছে প্রচুর ক্যালসিয়াম যা হাড়ের গঠনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া এতে থাকা ম্যাঙ্গানিজ হাড়কে করে তোলে মজবুত। তাই হাড়ের সমস্যা প্রতিরোধে খাবার তালিকায় আনারস রাখতে হবে।

সাবধাণতা –
আনারস খেলে কারও কারও এলার্জির সমস্যা যেমন বিভিন্ন ধরনের চুলকানি, ফুস্কুরি ইত্যাদি হতে পারে।

আনারসে প্রচুর প্রাকৃতিক চিনি থাকায় তা ডায়বেটিস রোগীর জন্য ক্ষতিকর। এর অতিরিক্ত চিনি আমাদের রক্তে চিনির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। তাই ডায়াবেটিস রোগীরা আনারস কম খেলেই ভালো।

আনারস শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়াতে বাঁধা প্রদান করে থাকে। তাই যারা আনারস খেলে এসব সমস্যায় ভোগেন তারা অবশ্যই আনারস থেকে দূরে থাকবেন।
প্রাকৃতিকভাবে সুস্থতাপ্রাপ্তিই সবথেকে বড় সুস্থতা। তাই সুস্থ থাকুন প্রাকৃতিকভাবেই।

This Post Has One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!