fbpx
skip to Main Content
করোনা ভাইরাস ও আপনার সন্তানের নিরাপত্তা

বর্তমান সময়ে যে বিষয়টা সারাদিন আমাদের সামনে এসে হাজির হচ্ছে সেটা হলো নোভেল করোনা ভাইরাস। নাহ, এটা কোন উপন্যাসের নাম না। এটা হলো নতুন ধরণের একটি ভাইরাস আর সাইন্টিস্টরা এর নাম দিয়েছেন কোভিড-১৯। সাধারণ সর্দি কাশির লক্ষণ দিয়ে শুরু হওয়া এই ভাইরাসটি এতটাই ছোঁয়াচে যে রোগটি দেশ থেকে দেশান্তরে পার হচ্ছে যেন বাতাসের মতই।জেনে নেয়া জরুরী কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হলে কি কি লক্ষণ প্রকাশ পায়।

রোগের লক্ষণ:

জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা এবং অস্বস্তি, শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যাই মূলত প্রধান লক্ষণ।

এটি ফুসফুসে আক্রমণ করে।

সাধারণত শুষ্ক কাশি ও জ্বরের মাধ্যমেই শুরু হয় উপসর্গ, পরে শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয়।

সাধারণত রোগের উপসর্গগুলো প্রকাশ পেতে গড়ে পাঁচ দিন সময় নেয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ভাইরাসটির ইনকিউবেশন পিরিয়ড ১৪ দিন পর্যন্ত স্থায়ী থাকে। তবে কিছু কিছু গবেষকের মতে এর স্থায়িত্ব ২৪ দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। 

রোগটি কোন কোন ক্ষেত্রে এতটাই ভয়ংকর নিউমোনিয়ার রূপ নিতে পারে যে, এটা মানুষকে ঠেলে দিতে পারে মৃত্যুর দিকে।

বিজ্ঞানীরা এবং ডাক্তাররা বারবার যে কথাটা বলছে সেটা হলো এই ভাইরাসটির মোকাবেলা, ‘ আক্রান্ত হবার পরে চিকিৎসা’ এই মতবাদে করা যাবে না বরং ‘সাবধানতা অবলম্বন করে আক্রান্ত না হওয়া’ এই মতবাদে করতে হবে। তাই সেই পুরাতন কথায় ফিরে যাই।

বাঁচতে হলে জানতে হবে ।জেনে নিই কিভাবে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পরে এক মানুষ থেকে আরেক মানুষে।  তাহলেই হয়তোবা বেঁচে যেতে পারি এই আণুবীক্ষণিক দানবের হাত থেকে।

কিভাবে ছড়ায়?

আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি,কাশি কিংবা তার মুখ থেকে ছিটকে আসা ছোট থুথুর কণা থেকে প্রধাণত এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে পরে। হয়তোবা সুস্থ মানুষটা আক্রান্ত ব্যক্তির খুব কাছেই ছিল। আর ছিটকে এসেছে একটি মাত্র কণা। ব্যস এতখানিই যথেষ্ট।

আরও  আতঙ্কের ব্যপার হয়তোবা আক্রান্ত ব্যক্তির হাতে জীবানু ছিল আর সে স্পর্শ করেছে আপনার বাসার কিংবা অফিসের লিফটের বাটন অথবা স্পর্শ করেছে যে কোন কিছুই হোক সেটা নানান হাত ঘুরে আসা আপনার বাজারের ব্যাগে। হতেই পারে যে সুপারশপে আপনি নিয়মিত বাজার করেন সেখানে আছে ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে ছিটকে আসা কিছু কণিকা।

এবার বাচ্চাদের প্রসংগে কিছু কথা..

বাচ্চাদের জন্যও কি রোগটি ততটাই ভয়ংকর যতটা বড়দের জন্য?

এইবার কিছু আশার কথা বলি। যদিও ব্যাপারটার কোন সঠিক ব্যাখ্যা নাই তবু এক্সপার্টরা এখন পর্যন্ত পাওয়া জরিপ অনুযায়ী দাবি করছেন সবথেকে কম ঝুঁকিতে আছে বাচ্চারাই আর সব থেকে বেশি ঝুঁকিতে আছেন বয়স্করা।

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে যাওয়া এই রোগের লাখ ছোঁয়া রোগী আর হাজার মৃত্যুর ভীড়েও অবাক করা বিষয় খুব অল্প পরিমানের বাচ্চাই এতে আক্রান্ত হয়েছে । আর যাওবা আক্রান্ত হয়েছে অসুস্থতার মাত্রা বড়দের তুলনায় অনেকটাই কম অনেকটা সাধারণ ফ্লু এর মতই ।  

চায়নাতে ৭৪৫ জন সন্দেহভাজন শিশুর উপর জরিপ চালানোর পরে মাত্র ১০ জনকে পাওয়া গেছে কোভিড-১৯ পজিটিভ এবং এদের মধ্যে ৭ জনের সাধারণ সর্দি কাশি আর গলা ব্যথার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের বড়দের মত কোন জীবনঘাতী নিউমোনিয়ার লক্ষণ এক্স-রের রিপোর্টে পাওয়া যায় নি।  

বাচ্চারা নিজে থেকে তেমন একটা হাত সাবান দিয়ে ধুতে চায় না এই অভিযোগ প্রায় সব বাবা মাকেই করে থাকে। এরপরেও শিশুদের কম আক্রান্ত হওয়ার এই রিপোর্টটি নিশ্চিতভাবেই একটা বড় একটা ভরসার ব্যাপার। নাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হতো সেটা বলাই বাহুল্য। আর শিশুদের থেকে বড়দের আক্রান্ত হবার হারও বেড়ে যেত বহু গুণে।

কিভাবে ছড়ায় এবং শিশুরা কতখানি ঝুঁকিতে আছে সেটা তো জানা হলো এবার কোভিড-১৯ থেকে কিভাবে রক্ষা করব নিজেদের?

১. বিশ সেকেন্ড সময় ধরে হ্যান্ডওয়াশের মাধ্যমে হাত ধুতে হবে অন্তত দুই ঘণ্টা পর পর এবং যখনই বাইরের কিছু ধরবেন তার পরেই। কোভিড-১৯ সাবানের সংস্পর্শে এলে বাঁচতে পারে না।

২. বাসার বাইরে যেখানে সাবান সহজে পাওয়া যায়  না সেখানে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করুন।

৩. হাঁচি এবং কাশির জন্য টিস্যু ব্যবহার করুন এবং বারবার নাকে মুখে হাত দেবার অভ্যাসটা আজকে থেকেই বাদ দিয়ে দিন।

৪. অসুস্থ মানুষ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন অবশ্যই মানবিক দিক বজায় রেখে। পারতপক্ষে হসপিটাল যাওয়া থেকে বিরত থাকুন কারণ এমন হওয়াটা খুব স্বাভাবিক আপনি হসপিটাল থেকেই সুস্থ হবার বদলে উল্টা এই রোগ বয়ে নিয়ে বাসায় আসলেন। কারণ দুনিয়া জুড়ে ডাক্তার এবং নার্সরা সবচেয়ে বেশি মাত্রায় আক্রান্ত হচ্ছে এই রোগে যেহেতু তারা হসপিটালে এই রোগীর সংস্পর্শে সবথেকে বেশি আসে।

৫. এমন একটা কথা শুরুর দিকে যদিও চালু ছিল যে শুধু অসুস্থ ব্যক্তিরাই মাস্ক পরবে কিন্তু পরবর্তীতে জানা যায় সবার জন্যই সমান জরুরী। তাই ঘরের বাইরে গেলেই মাস্ক পরিধান করুন।

৬. যে সব জায়গায় বেশি মানুষ জড়ো হয় হোক তা মসজিদ , সেসব জায়গায় যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। স্বয়ং সৌদি আরব ওমরা এবং হাজ্জ বন্ধ রেখেছে। তাই আপনি চাইলে ঘর থেকেই ইবাদত করতে পারেন।  

৭. অফিস কিংবা বাসার লিফট , এটিএম বুথের বাটন প্রেস করতে হাতের বদলে টিস্যু ব্যবহার করুন এবং ব্যবহার শেষে ফেলে দিন।

৮. টাকা পয়সার আদান প্রদান যদি একান্তই ক্যাশে করতে হয় তাহলে আদান প্রদান শেষে সাথে সাথে হাত ধুয়ে ফেলুন। 

৯. বেশি বেশি ভিটামিন সি, গরম পানি, মধু এবং কালোজিরা খান। যাতে আপনি আক্রান্ত হয়ে গেলেও আপনার শরীর ভাইরাসের সাথে সহজেই ফাইট করতে পারে।

১০. এরপরেও আক্রান্ত হয়ে গেলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শমত চলুন।

১১. পরামর্শের লিস্ট চাইলে আরও অনেক দূর লম্বা করাই যায় তবে এখন যেটা বলতে যাচ্ছি সেটা সবচেয়ে জরুরী পরামর্শ। আর সেটা হলো: ঘরে থাকুন । একেবারে স্বেচ্ছাবন্দী। কোয়ারেন্টাইনের চেয়ে ভালো সুরক্ষা আর কোন কিছুই আপনাকে দিতে পারবে না।   

 কোয়ারেন্টাইন, আমি, আপনি এবং আপনার সন্তান:

হোম কোয়ারেন্টাইন। ব্যাপারটা শুনতে বেশ গালভরা লাগলেও খুব ডিপ্রেসিং একটা ব্যাপার। আমরা বড়রা তো কোনভাবে মানিয়ে নিব কিন্তু বাচ্চারা কি করবে? ঘরে বন্দী জীবন কোন বাচ্চার জন্যই কোন আরামদায়ক কিছু না বরং প্রচন্ড রকম মান্ডেন একটা অবস্থায় থেকে ওরা হয়তো বিরক্ত করবার মাত্রা বাড়িয়ে দিবে অনেক গুণে। তাই অভিভাবকদের খুব ঠান্ডা মাথায় ব্যাপারটার মোকাবেলা করতে হবে। চেষ্টা করছি কিছু টিপস দেবার।

·   প্রথম পরামর্শ হচ্ছে ধৈর্য্য রাখা। স্কুলে যেতে না পেরে আর প্রচন্ড আইসোলেইটেড হয়ে গিয়ে হয়তো জিদ বাড়িয়ে দিতে পারে বাচ্চারা। তাই সহানুভূতির সাথে খুব সুন্দর করে বিভিন্ন শিশুদের উপযুক্ত ভিডিওর মাধ্যমে এর ভয়াবহতা তুলে ধরতে পারেন।

·   একটা নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করে দিতে পারেন। পড়ালেখার জন্য দিনে একটা সময় বেধে  করে দেয়া খুব জরুরী। সেই লিস্টে আরও থাকতে পারে লিমিটেড স্ক্রিন টাইম, শিক্ষামূলক ভিডিও, স্টোরি টাইম।

·   আপনার সন্তানের সবচেয়ে কাছের বন্ধু হবার জন্য এই কোয়ারেন্টাইন এর সময়টাই হতে পারে আদর্শ। তাই নিজেকে এমন ভাবে তার সামনে প্রকাশ করুন যাতে নিজের অনুভূতি আপনার সামনে প্রকাশ করবার ভরসা পায়।

·   আপনার নিজের করা ব্যবহারের দিকেও লক্ষ্য রাখুন ।কারণ বাচ্চারা তাই ই করে যা তারা দেখে।

· তাদের বিনোদনের জন্য তাদের সাথে নিজে খেলুন, ক্রাফটিং আর কালার করুন। সর্বোপরি এমন একটা নেতিবাচক পরিস্থিতিকে ইতিবাচক কিছুতে পরিনত আপনিই করতে পারেন। সেটা শুরু হোক আপনার ঘর থেকেই।

This Post Has 1,337 Comments
  1. It is appropriate time to make some plans for the
    long run and it’s time to be happy. I’ve learn this put up and if I may I wish to suggest
    you few fascinating things or suggestions. Maybe you can write subsequent articles
    relating to this article. I desire to read more things about it!