fbpx
skip to Main Content
কিডনি সুরক্ষা রাখতে আপনার ভূমিকা

অনেক কিছুর একক পড়েছেন এই জীবনে বলুনতো কিডনির একক কি? আচ্ছাহ! কিডনির আবার একক ও আছে তাহলে। জী হ্যাঁ! আছে। মেডিকেলের ভাষায় কিডনির একক নেফ্রন। আমাদের কিডনির ভেতরে পাতলা জালিকার মতন যে ছাকনি আছে সেগুলোকেই নেফ্রন বলে আর এই নেফ্রনই হল কিডনির মূল অংশ। আমাদের দুটো কিডনিতে মোট দশ-বারো লাখ নেফ্রন আছে বলে জেনা গেছে।

আমাদের শরীরে প্রধান অঙ্গগুলোর মধ্যে দুটো কিডনি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনার কিডনি ক্ষতগ্রস্ত হলেই আপনি টের পাবেন না যে আপনার কিডনিতে সমস্যা হচ্ছে কিন্তু যখন টের পাবেন তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। দেখি কি কি উপস্বর্গ দেখলে আপনি বুঝবেন আপনার কিডনিতে সমস্যা হয়েছে।

১) প্রস্রাবে পরিবর্তন:  কিডনি রোগের একটি বড় লক্ষণ হলো প্রস্রাবে পরিবর্তন হওয়া। কিডনির সমস্যা হলে প্রস্রাব বেশি বা কম হয়। বিশেষত রাতে এই সমস্যা বাড়ে। প্রস্রাবের রং গাঢ় হয়। অনেক সময় প্রস্রাবের বেগ অনুভব হলেও প্রস্রাব হয় না।

২) প্রস্রাবের সময় ব্যথাঃ প্রস্রাবের সময় ব্যথা হওয়া কিডনির সমস্যার আরেকটি লক্ষণ। প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া এবং ব্যথা অনুভূত হয়৷

৩) প্রস্রাবের সাথে রক্ত যাওয়াঃ প্রস্রাবের সাথে রক্ত যাওয়া হলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি লক্ষণ ৷ এমন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৪) দেহে ফোলা ভাবঃ কিডনি শরীর থেকে বর্জ্য এবং বাড়তি পানি বের করে দেয়। কিডনিতে রোগ হলে এই বাড়তি পানি বের হতে সমস্যা হয়। বাড়তি পানি শরীরে ফোলাভাব তৈরি করে ৷ বিশেষ করে চোখের নিচ, মুখ কিংবা পা ফুলে যায়।

৫) মনোযোগ দিতে অসুবিধা হওয়াঃ লোহিত রক্তকণিকা কমে যাওয়ার কারণে মস্তিস্কে অক্সিজেন পরিবহন কমে যায়। এতে কাজে মনোযোগ দিতে অসুবিধা হয়।

৬) বিনা কারণে শরীর চুলকানোঃ কিডনি অকার্যকর হয়ে পড়লে রক্তে বর্জ্য পদার্থ বাড়তে থাকে। ফলে এটি ত্বকে চুলকানি এবং র‍্যাশ তৈরি করতে পারে।

৭) বমি হওয়া বা বমি বমি ভাবঃ রক্তে বর্জ্য পদার্থ বেড়ে যাওয়ায় কিডনির রোগে বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়ার সমস্যা হতে পারে।

৮) শরীরের পেছনে ব্যথাঃ কিডনি রোগে শরীরে ব্যথা হয়। পিঠের পাশে নিচের দিকে ব্যথা হয়।

৯) শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যাঃ কিডনি রোগে ফুসফুসে তরল পদার্থ জমা হয়। এ ছাড়া কিডনি রোগে শরীরে রক্তশূন্যতাও দেখা দেয়। এসব কারণে শ্বাসের সমস্যা হয়, তাই অনেকে ছোট ছোট করে শ্বাস নেন।

১০) জ্বর আসা বা শীত অনুভূত হওয়াঃ কিডনি রোগ হলে গরম আবহাওয়ার মধ্যেও শীত শীত অনুভব হয়। আর কিডনিতে সংক্রমণ হলে জ্বরও আসতে পারে।

১১) ক্লান্ত লাগা এবং মাথা ঘোরাঃ যদি কিডনির সমস্যা হয় তাহলে কিডনি তার শরীর থেকে টক্সিন বের করে রক্ত পরিশোধন করতে পারে না। তখন সারাদিন ক্লান্ত লাগে, মাথা ঘোরা ভাব বেশি হয়।

১২) খাদ্যে অরুচি দেখা দেয়াঃ অনেক কারণেই খাদ্যে অরুচি হতে পারে। কিডনির সমস্যাও এর মধ্যে অন্যতম।কিডনি ঠিক মতো কাজ না করলে খাদ্যে অরুচি দেখা দেয় ৷

এইসকল সমস্যা থেকে আপনি কখনই একদিনে আঁচ করতে পারবেন না যে আপনার কিডনি ধীরে ধীরে বিকল হচ্ছে কিন্তু যদি আগে থেকে জানা থাকে আপনার কিডনির সমস্যা লক্ষণ তবেই কেবল আপনি যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

আপনার মূল্যবান কিডনির সুরক্ষিত রাখতে রাখতে যে সকল কাজ আপনি করতে পারেন তার একটু বর্ণনা দেয়া হলোঃ

(১) পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন:
প্রতিদিন অন্তত ৮ গ্লাস পানি বা তরল খাবার খাওয়া উচিত। তবে অতিরিক্ত ঘাম হলে পানি খাওয়ার পরিমাণ আরো বাড়াতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেলে কিডনিতে পাথর হয় না এবং এর স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক থাকে।

(২) খাবারে লবণ কম খান:
খাবারে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। মানুষের শরীরে প্রতিদিন মাত্র ১ চা চামচ লবণের চাহিদা থাকে। তাই কিডনি সুস্থ রাখতে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া পরিহার করার অভ্যাস করুন।

(৩) অতিরিক্ত প্রাণিজ প্রোটিন খাওয়া থেকে বিরত থাকুন:
গরুর মাংস, শুকরের মাংস ইত্যাদি খেলে কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এমনকি চিপস, ফাস্টফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ইন্সট্যান্ট নুডলস এবং লবণ দিয়ে ভাজা বাদামও কিডনির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। খাবার তালিকায় অতিরিক্ত প্রোটিন থাকলে কিডনির ওপর চাপ পড়ে এবং কিডনির দুর্বল কোষগুলোর ক্ষতি হওয়ার আশংকা থাকে। তাই প্রাণিজ প্রোটিন এড়িয়ে মাছ বা ডাল জাতীয় প্রোটিন রাখুন।

(৪) রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখুন
রক্তচাপ ১৪০/৯০ এর উপরে থাকলে কিডনির সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই কিডনি ভালো রাখতে রক্তচাপ সবসময় ১৩০/৮০ অথবা এর কম রাখার চেষ্টা করুন। রক্তচাপ কমিয়ে রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম করা ও লবণ কম খাওয়া জরুরি।

(৫) ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন:
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না রাখলে কিডনির রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। নিয়মিত রক্তের সুগারের পরিমাণ পরীক্ষা করান। সুগার বেশি থাকলে মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।

(৬) ওষুধ খাওয়ার ক্ষেত্রে সাবধান:
কম বেশি প্রায় সব ওষুধই কিডনির জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে ব্যথানাশক ওষুধগুলো কিডনির জন্য একেবারেই ভালো নয়। নিয়ম না জেনে নিজে নিজে ওষুধ কিনে খেলে আপনার অজান্তেই কিডনির বড় কোনো ক্ষতি হয়ে যাবে। তাই যে কোনো ওষুধ খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিন।

(৭) প্রয়োজনের বেশি ভিটামিন সি খাবেন না:
মানুষের শরীরে প্রতিদিন ৫০০ মিলিগ্রামের বেশি ভিটামিন সি এর প্রয়োজন নেই। নিয়মিত প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খেলে কিডনিতে পাথর হওয়ার আশংকা থাকে। তাই প্রতিদিন ৫০০ মিলিগ্রাম বা এর কম ভিটামিন সি গ্রহণ করুন।

(৮) কোমল পানীয় ত্যাগ করুন:
অনেকেই পানির বদলে কোমল পানীয় বা বিভিন্ন রকমের এনার্জি ড্রিঙ্কস খেয়ে থাকেন। এ ধরনের পানীয় কিডনির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই কোমল পানীয় এড়িয়ে চলুন এবং যখনই তৃষ্ণা পায় পানি খেয়ে নিন।

(৯) ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ করুন:
ধূমপান ও মদ্যপানের কারণে ধীরে ধীরে কিডনিতে রক্ত চলাচল কমে যেতে থাকে এবং এর ফলে কিডনির কর্মক্ষমতাও হ্রাস পায়। ফলে ধূমপায়ী ও মদ্যপায়ী ব্যক্তি একপর্যায়ে গিয়ে কিডনির রোগে আক্রান্ত হয়।

(১০) কিডনির পরীক্ষা করান:
উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন অথবা পরিবারের কারো কিডনি সমস্যা থাকলে কিডনি রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। যাদের কিডনি রোগের ঝুঁকি আছে তাদের অবশ্যই নিয়মিত কিডনি পরীক্ষা করানো উচিত।

This Post Has 33 Comments
  1. Hi there, just became aware of your blog through Google,
    and found that it is truly informative. I am going to
    watch out for brussels. I’ll appreciate if you continue this in future.
    Numerous people will be benefited from your writing.
    Cheers!

  2. It’s actually
    very difficult in this full of activity life to
    listen news on
    Television, therefore I only use
    internet for that reason, and obtain the latest information.

  3. Greetings!
    I know this is kinda off topic but I was wondering
    which blog platform are you using for this
    site? I’m getting sick and tired
    of WordPress because I’ve had problems with hackers and I’m
    looking at options for another platform. I would be
    great if you could point me in the direction of a good platform.

  4. I do not know whether It’s just me or if perhaps everyone else encountering issues with your
    website.
    It appears as if some of the
    written text in your content are running off
    the screen. Can someone else please provide feedback and let me
    know if this is happening to them too?
    This could be a problem with my
    internet browser because I’ve had this happen before.
    Cheers

  5. Heya! I just wanted to ask if you ever have any issues with hackers?

    My last blog (wordpress) was hacked and I ended up losing many months of hard work due to no back
    up.
    Do you have any methods to stop
    hackers?

  6. What’s Happening I’m new to this, I stumbled upon this I have found
    It positively helpful and it has aided me
    out loads. I am hoping to give a contribution different customers like its helped
    me. Great job.

  7. I’m impressed, I must say. Seldom do I come across a
    blog that’s
    both educative and interesting,
    and without a doubt, you have hit the nail on the head.

    The problem is something which not
    enough folks are speaking intelligently about.
    I’m very happy I found this during my search for something relating to
    this.

  8. I’ve learn a few good stuff here.
    Certainly price bookmarking for
    revisiting. I surprise how a lot attempt you set to make the sort
    of excellent informative site.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!