fbpx
skip to Main Content
শিশুদের হাতে স্মার্ট ডিভাইস – বাবা মা হিসেবে আপনার করণীয়

পৃথিবী ছোট হয়ে এসেছে। এর মানে কি এই যে পৃথিবীর আয়তন কমে গেছে? না। এর অর্থ হলো প্রযুক্তি এতটাই সহজলভ্য, পাশাপাশি ইন্টারনেটের বদৌলতে পৃথিবী চলে এসেছে হাতের মুঠোয়। ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে বৃদ্ধ সবার হাতে ডিভাইস। এই দৃশ্য দেখতে বেশি দূর যেতে হয় না, ছোট শিশু ঠিকমত কথা পর্যন্ত বলতে পারে না কিন্তু হাতে মোবাইল কিংবা ট্যাব, ইউটিউব এর সাজেশন থেকে নিজেই পছন্দের ভিডিও, কার্টুন বের করে দেখছে আর এই দিকে গর্বিত বাবা-মা হয়তো শিশুকে খাইয়ে দিচ্ছে অথবা নিজের কাজ করছে। যন্ত্রে ডুবে থাকা শিশু কোন বিরক্ত ছাড়াই খেয়ে নিচ্ছে অথবা বাবা-মা কে নিজেদের কাজে কোন ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে না।
একটাবার কিন্তু ভেবে দেখছে না এর ভবিষ্যৎ কি ভয়াবহ হতে পারে।

বলে বসবেন এতে ভঁয়ের কি আছে? আমার সন্তান ইউটিউব দেখে ৫০ টা রাইমস শিখে ফেলেছে, ব্রিটিশ উচ্চারণে ইংরেজি বলে, মুখে মুখে যোগ করে দিতে পারে, ক্ষতি টা কি? ক্ষতি নিয়েই কথা বলবো আর কি হতে পারে তার অল্টারনেটিভ সেটাও বলবো। সাধারণভাবেই কোন একটি জিনিস দিতে না চাইলে তার রিপ্লেসমেন্টটাও জরুরী। এতে হয়তো বাবা-মা হিসেবে আপনাদের একটু বেগ পোহাতে হবে তবে আখেরে ফল ভোগ তো আপনিই করবেন।

কি কি ক্ষতি হতে পারেঃ
“ডেইলি মেইল” তাদের একটি প্রতিবেদনে বলেছিল, ৭০% বাচ্চারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার বয়সেই গ্যাজেট ব্যবহারে মাস্টার হয়ে যায়। যদিওবা গ্যাজেট ব্যবহারে কিছুটা উপকার হয় যেমন এটি শিক্ষা ও বিনোদনের মাধ্যম হতে পারে কিন্তু তারপরও অতিরিক্ত ব্যবহার ক্ষতির কারণ হতে পারে।

গবেষণা বলে, যেসব বাচ্চারা সারাক্ষণ গ্যাজেটের সাথে সময় কাটায় তাদের যে সমস্যা গুলো প্রধানত হয় তা হলো
-কথা বলতে দেরি হওয়া।
-ভাষা শিখতে দেরি হওয়া।
-বাস্তব জীবনের যেকোনো জিনিস শিখতে তাদের কষ্ট হয়।
-প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখাতে কোনভাবেই আর মন বসাতে পারে না।
-অসামাজিক মানুষ হয়ে ওঠে যে কিনা অন্যের সাথে হাসি মুখে মেশার চেয়ে রঙিন জগতে ডুবে থাকতেই ভালোবাসে।
-অ্যাংজাইটি, হতাশায় ভোগে
-অবাস্তব জিনিস দেখে দেখে তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। একটা ফ্যান্টাসিতে ভোগে।
-অনেক সময় ইন্টারনেটের বদলে অনেক কুরুচিপূর্ন ভিডিওর সাথে ছোটবেলাতেই পরিচয় হয়ে যায়, যা নৈতিক অবক্ষয়ের দিকেই নিয়ে যায়।
-এছাড়াও আরো ভয়ংকর যে ব্যাপার প্রায়ই শোনা যায় বাচ্চারা অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাক্টিভিটি ডিজঅর্ডার (ADHD) তে ভোগে।
এই তো গেল মানসিক সমস্যা। কিছু শারীরিক সমস্যাতেও তারা ভোগে। যেমন

-বাচ্চারা অতিরিক্ত মোটা হয়ে যায়। কারন তাদের বেশি খাওয়ার প্রবনতা তো শুরু হয় সেই ছোটবেলায় ইউটিউব দেখতে দেখতে খাওয়ার সময়েই।
-দৃষ্টিশক্তি কমে যায় কারন বেশি সময় ধরে ডিভাইসের সাথে থাকে।
-মাঝেমধ্যে কানের সমস্যাও দেখা দেয়।
-ব্রেইনে অতিরিক্ত চাপ পড়ার কারনে ছোট বেলা থেকে মাথাব্যথার রোগ দেখা যায়।
-অল্প পরিশ্রমেই এসব বাচ্চারা হাপিয়ে যায়, তাই জীবনে যখন কঠোর অধ্যবসায়ের সময় সেই সময়টা এরা অনেকাংশেই একেবারে পিছিয়ে পড়ে।

এতকিছুর পরেও কি মনে হচ্ছে দুই চারটা ইংরেজি শব্দ আর রাইমস গরগর করে বলা আপনার শিশুকে নিয়ে আপনার গর্ব করা উচিৎ? জবাব এখন আপনিই দিবেন।

ইন্টারনেটের রঙিন দুনিয়া যেখানে আঙুলের স্পর্শে সব নিজের ইচ্ছামত বদলে যায়, বাস্তবতা কিন্তু এমন না। আঙুলের স্পর্শে বদলায় না কিছুই। এই ব্যপারটা মেনে নিতে না পেরে আপনার সন্তানের জীবনটা চলে যেতে পারে উচ্ছনে।

মা-বাবা কিংবা বাচ্চার দায়িত্বে যারা থাকেন তাদের কঠোরভাবে বাচ্চাকে নিয়মানুবর্তিতায় রাখতে হবে। এবং ডিভাইসের প্রতি আকর্ষণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আমরা একথা বলছি না দেয়াই যাবে না, বলছি সপ্তাহে সময় বেধে দিয়ে অল্প সময়ের জন্য দিন। এবং কোন কাজের পুরষ্কার হিসেবে দিন।

বলে দিচ্ছি কি উপায়ে এর ব্যবহার সীমিত করা যায়৷

গ্যাজেট ব্যবহারে সময় বেঁধে দিনঃ

মা-বাবা এবং অভিভাবক হিসেবে আমরা বাচ্চাদের গ্যাজেট ব্যবহার এর সময় নির্দিষ্ট করে দিতে পারি। কিছু মা-বাবা সপ্তাহে সর্বোচ্চ দুইদিন একঘন্টা করে দেয় বাচ্চাদের স্ক্রিন টাইম হিসেবে। আবার কোনো কোনো বাবা-মা পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে একদমই অনুমতি দেয় না বাচ্চাদের মোবাইল বা ট্যাব চালাতে। আপনি সিদ্ধান্ত নিন কোনটি আপনার বাচ্চার বেলায় বেশি কার্যকর হবে তাকে কনসিস্টেন্ট রাখার জন্য।

খেলাধুলোয় অভ্যস্ত করে তুলুন আপনার সন্তানকেঃ

বাচ্চাদের খেলাধুলা ও নানানরকম শারিরীক কসরতে ব্যস্ত রাখতে হবে ৷ তাদের উৎসাহ দিতে হবে কায়িকশ্রম করার জন্য। তাদের শেখান কিভাবে সাইকেল চালাতে হয়, তাদের সাঁতার শেখান ৷ এসব বাচ্চাদের মোবাইল গেম থেকে একদম দূরে ঠেলে দেবে না কিন্তু তাদের ফিট রাখবে।।

বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ডের সাথে শিশুকে সম্পৃক্ত করুনঃ

ছবি আঁকা, স্কেচিং, লেগো বিল্ডিং, পাজেল সলভিং এবং আরো বুদ্ধিবৃত্তিক কাজগুলো বাচ্চাদের কল্পনাশক্তি প্রখর করে তোলে। বাচ্চাদেরকে এসব কর্মকান্ডে ব্যস্ত রাখতে পারেন। তাহলেও স্ক্রিনিং টাইম কিছুটা কমবে ৷

শিশুদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুনঃ

বই পড়া হতে পারে খুবই ভালো একটি উপায় বাচ্চাদের মোবাইল থেকে দূরে রাখার ৷ আপনার সন্তানকে বইয়ের সাথে বন্ধুত্ব করিয়ে দিন। বাচ্চাদের উপযোগী সবধরনের বই পড়তে দিন। বাচ্চাদের জ্ঞানের নানান শাখায় বিচরণ করার সুযোগ হবে। বইয়ের মত যদি বন্ধু থাকে তাহলে ডিভাইস খানিকক্ষণের জন্য হলেও দূরে থাকবে। খেয়াল রাখবেন বই যেন হার্ড কপিই হয়। সফট কপি যা ফোন বা পিসিতে পড়তে হয় তা দেবেন না এতে স্ক্রিন টাইম আরো বেড়ে যাবে কিন্তু।

বাচ্চাকে সময় দিনঃ

মা-বাবা হিসেবে আমাদের অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয় বাচ্চাদের ভালো রাখতে। এতসব দায়িত্বের ভীড়ে আমরা যেন না ভুলে যাই বাচ্চাদের সাথে সময় কাটানোর কথা ৷ বাচ্চার সাথে অনেক বেশি সময় কাটাবেন, কথা বলবেন, সবকিছু নিয়ে আলোচনা করবেন। বাচ্চাদের মনের কথা শুনবেন। তাদের প্রতিটা কথার গুরুত্ব দেবেন, ছোট মানুষ ভেবে অবহেলা করবেন না তাদের কথা৷ অ্যাপ্রিশিয়েট করুন তাদের কাজ ৷ কোনো ভুল বা নিষিদ্ধ কাজ করলে কেন তা করা যাবে না বুঝিয়ে বলুন ৷ আপনি যত সময় দেবেন বাচ্চাকে তত সময় বাচ্চাকে ডিভাইসের সাথে থাকতে হবে না ৷

বাচ্চার সাথে বন্ধন দৃঢ় করুনঃ

বাচ্চাকে খাওয়ার আগে বা ঘুমানোর আগে মোবাইলে কার্টুন বা গান চালিয়ে দেবেন না। আপনি বাচ্চার সাথে সময় কাটাবেন। যে কাজ আপনার সে কাজ ডিভাইসকে কেন দেবেন ৷ যত সময় আপনি বাচ্চার সাথে থাকবেন ততই আপনাদের বন্ধন দৃঢ় হবে। এতে করে আপনি আপনার সন্তানের চিন্তাভাবনা এবং কর্মকাণ্ডও বুঝতে পারবেন। আপনি এও বুঝবেন কোনটি তার জন্য ভালো আর কোনটি ক্ষতিকর।

আপনার সন্তান ভবিষ্যৎ এ কেমন মানুষ হয়ে উঠবে এটি আপনার বড় করার প্রসেসের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। তাই এই যুগে পা ফেলতে হবে খুব সাবধানে। নয়তো ভবিষ্যতে বড় হয়ে একজন অসফল সন্তান তার বাবা মাকেই দোষারোপ করবে। আপনার সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য শুভ কামনা।

This Post Has 5,474 Comments
  1. i need loan urgently, i need a loan now. i need payday loan today need loan, i need loan fast, serve u cash payday loans, cash advance, cash advances, cash advance loans online bad credit. Bank will spark financial affairs, designed for companies. fast loan advance payday loan direct deposit payday loan direct lenders only.

  2. I was recommended this web site by my cousin. I’m not sure
    whether this post is written by him as no one else know such detailed about my trouble.
    You’re wonderful! Thanks!

  3. Magnificent items from you, man. I’ve be aware your
    stuff previous to and you’re just too fantastic. I really
    like what you’ve bought here, really like what you are stating and the way in which during which you say it.
    You make it enjoyable and you still care for to stay it smart.
    I can not wait to read much more from you.
    That is really a great website.

  4. Helpful information. Fortunate me I discovered your web site accidentally, and I’m surprised why this twist of fate did not took place
    in advance! I bookmarked it.

  5. Good day! I know this is kinda off topic however
    , I’d figured I’d ask. Would you be interested in trading links or maybe
    guest writing a blog article or vice-versa? My website addresses a lot of the same subjects as yours and I feel we could greatly benefit from each
    other. If you might be interested feel free to shoot me an e-mail.
    I look forward to hearing from you! Superb blog
    by the way!

  6. Thanks , I’ve just been looking for information about this topic
    for ages and yours is the best I’ve came upon so far. However, what in regards to the conclusion?
    Are you sure in regards to the supply?