fbpx
skip to Main Content
শিশুর এলার্জি – ধরণ ও প্রতিকার

এলার্জি শব্দটা একটা বিভীষিকার মত। সেটা যদি ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে হয় তাহলে আরো কষ্টের ব্যাপার।

বড়দের মত ছোটদেরও অ্যালার্জি হতে পারে ৷ নানান রকম খাবার, তাদের সংস্পর্শে আসা বিভিন্ন জিনিস  কিংবা ঘরে-বাইরে তারা শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে যা ভেতরে নিচ্ছে তা থেকে। বাচ্চারা যেহেতু কিছু বলতে পারে না তাই ওদের অ্যালার্জির উপসর্গগুলো বুঝতে পারা একটু কঠিনই বটে। 

বাচ্চাদের অনেকরকমের অ্যালার্জিই থাকতে পারে। সাধারণত বাচ্চাদের অ্যালার্জিকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 

– খাদ্য এবং ওষুধ /ফুড এন্ড মেডিসিন

– পরিবেশগত /এনভায়রনমেন্টাল 

– মৌসুমি /সিজনাল

খাবার বা ওষুধের মাধ্যমে যে অ্যালার্জি হয় তা সাধারণত তা গ্রহনের পরপরই হয়। এটি কখনো কখনো অল্প হয় আবার কখনোবা তীব্র হয়ে জীবনের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়৷ 

পরিবেশগত অ্যালার্জি সাধারণত বাচ্চাদের ত্বকের সংস্পর্শে এমন কিছু এলে যাতে তার অ্যালার্জি তা থেকে হতে পারে, যেমন ডিটারজেন্ট। আবার কখনো কিছু জিনিস শ্বাসপ্রশ্বাস এর মাধ্যমে ভেতরে চলে গেলে তা থেকে হয়, যেমন ধুলাবালি। এই অ্যালার্জি বাচ্চাদের বছর জুড়ে হতে পারে। 

সিজনাল অ্যালার্জি বছরের একটা নির্দিষ্ট সময়েই হয়। যেমন বসন্তে ফুলের রেনু থেকে কিংবা শীতের সময়। এধরণের অ্যালার্জিকে “Hay Fever” টার্মে সম্বোধন করা হয় অনেক সময়ে।

অ্যালার্জির উপসর্গঃ 

অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন সাধারণত তখনই হয় যখন খুবই সাধারণ একটি জিনিসকে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অস্বাভাবিকভাবে নেয়। একেকজনের একেকরকম জিনিসে অ্যালার্জি হওয়ায় এর রিঅ্যাকশনও ব্যক্তি ও অ্যালার্জির ধরণ অনুযায়ী ভিন্ন হয়।

বড় বাচ্চাদের এবং প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় বাচ্চাদের অনেক ধরণের অ্যালার্জি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম থাকে কারণ বাচ্চাদের শরীর কোনো কিছুতে অ্যালার্জিক হওয়ার আগেই হয়ত দেখা যায় সেটি বাচ্চাদের থেকে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে, বা খুব কম সময়ের জন্যই বাচ্চাদের একই জিনিস দিয়ে রাখা হয়। উদাহরণ স্বরুপ মৌসুমি অ্যালার্জির কথা বলা যায়। বাচ্চারা এই অ্যালার্জিতে কম আক্রান্ত হয় কারণ বাচ্চারা বড়জোর সেই মৌসুমটি এক বা দু’বারের বেশি পায় না। আবার নিশ্বাসের মাধ্যমে অ্যালার্জিগুলো এক দুই বছর বয়স হওয়ার আগে হয় না। 

খাদ্য ও ওষুধের মাধ্যমে হওয়া অ্যালার্জিঃ 

খাওয়ার কয়েক মিনিটের মাথায় কিংবা এক/দুইঘন্টার ভেতর অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে। ওষুধে অ্যালার্জির ফলে হওয়া উপসর্গ যেমন র‍্যাশ কয়েকদিন পর্যন্ত দেখা নাও যেতে পারে।

খাদ্য ও ওষুধের ফলে হওয়া অ্যালার্জির সাধারণ উপসর্গঃ 

– লাল হয়ে বিভিন্ন স্থান ফুলে যাওয়া অথবা র‍্যাশ হতে পারে 

– চুলকানি হতে পারে 

– নিশ্বাসের সাথে শব্দ হতে পারে কিংবা শ্বাসকষ্ট হতে পারে। 

ফুড অ্যালার্জিতে বমিবমি ভাব হতে পারে, বমি হতে পারে, পেটে ব্যথা হতে পারে। কখনো কখনো বাচ্চার ঠোঁট, জিভ ফুলে যেতে পারে। 

খাদ্যে বা ওষুধের অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন খুব বেশি তীব্র হলে সেটাকে আনাফ্যলাক্সিস (anaphylaxis) বলে৷ এটি সাধারণত তখনি ঘটে যখন এলার্জেনের সংস্পর্শে শরীরের কিছু নির্দিষ্ট রাসায়নিক অতিরিক্ত উৎপন্ন হয়৷ রক্ত চাপ কমে যায়, শ্বাসনালী সরু হয়ে যায় এবং নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়।

বাচ্চাদের ক্ষেত্রে খাদ্যের তীব্র অ্যালার্জি থেকেই Anaphylaxis হয়ে থাকে ৷ ওষুধের ক্ষেত্রে এই ধরণের সমস্যা খুবই দুর্লভ বলা যায় কখনো কখনো অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ থেকে হতে পারে৷ মৌমাছি বা অন্য কোনো পোকা হুল ফোঁটালে বা কামড়ালেও Anaphylaxis হতে পারে। 

বাচ্চাদের বেলায় Anaphylaxis বিরল বলা যায়। তবে গরুর দুধে থাকা প্রোটিনে অ্যালার্জি থেকে কখনো কখনো হতে পারে।

পরিবেশগত বা এনভায়রনমেন্টাল অ্যালার্জিঃ 

যদিও বাচ্চাদের বেলায় ধুলোবালি, পোষা প্রাণী, পোকামাকড়ের হুল, পরাগ রেনু কিংবা পরিবেশে থাকা অন্যান্য উপাদেনে খুব একটা অ্যালার্জি দেখা যায় না, তারপরও এধরণের অ্যালার্জিতে বুক ও মাথা অ্যাফেক্টেড হতে পারে। এর কিছু উপসর্গ যেমনঃ 

– হাঁচি 

– চোখ লাল হয়ে যাওয়া 

– কাশি, নিশ্বাসে শব্দ হওয়া, চেস্ট টাইটনেস 

– নাক দিয়ে পানি পড়া 

এছাড়াও হাইভস, র‍্যাশ, ফোঁড়া হতে পারে যদি ত্বক অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে আসে। 

শ্যাম্পু, সাবান, ডিটারজেন্ট এজাতীয় জিনিসগুলোর সংস্পর্শে হওয়া রিঅ্যাকশনকে সাধারণত কনটাক্ট ডারমাটাইটিস বলা হয়৷ 

মৌসুমি অ্যালার্জিঃ 

সিজনাল অ্যালার্জি সাধারণত গাছপালার অ্যালার্জেন থেকে হয়। এর উপসর্গগুলোও পরিবেশগত অ্যালার্জির উপসর্গের মতই ৷ যেমনঃ 

হাঁচি 

– চোখ দিয়ে পানি পড়া 

– কাশি 

– নাক দিয়ে পানি পড়া 

যদি আপনার বাচ্চার এই উপসর্গগুলো বছরের একটা নির্দিষ্ট সময়েই হয় তাহলে তার সিজনাল অ্যালার্জি আছে বুঝতে হবে। 

কিভাবে বুঝবেন বাচ্চার সর্দি হয়েছে নাকি অ্যালার্জি সমস্যাঃ 

নাক দিয়ে পানি পড়া, কাশি এগুলো সর্দি এবং অ্যালার্জি দুটোরই লক্ষন। কিভাবে বুঝবেন বাচ্চার কোনটি হয়েছে? 

একটা উপায় হলো, আপনি সময় হিসেব করতে পারেন, কতদিন পরপর এই সমস্যা হয় কখন হয় খেয়াল রাখতে পারেন। সর্দি খুবই সাধারণ সমস্যা বাচ্চাদের জন্য। অপরদিকে মৌসুমি ও পরিবেশগত অ্যালার্জি অ্যালার্জেনের ফলে হয়ে থাকে। সর্দিকাশি সাধারণত এক বা দুই সপ্তাহ স্থায়ী হয় কিন্তু অ্যালার্জি আরো বেশি সময় ধরে থাকে। 

আরো কিছু লক্ষন থাকে যা দেখে সর্দি আর অ্যালার্জির পার্থক্য করা যায়। যেমন – সর্দিকাশিতে সাধারণত জ্বরও হয়। অ্যালার্জিতে জ্বর হয় না। তাছাড়া অ্যালার্জিতে শরীর ব্যথা হয় না। কিন্তু সর্দিকাশি হলে জ্বরের পাশাপাশি শরীরেও ব্যথা হতে পারে। 

বাচ্চাদের কী কারণে অ্যালার্জি হয়? 

এটা পরিষ্কার না যে কেন কিছু বাচ্চার অ্যালার্জি হয় আবার কিছু বাচ্চার হয় না। বংশগত কারণ একটা বড় ভূমিকা রাখে। যদি আপনার কোনো কিছুতে অ্যালার্জি থাকে তাহলে বাচ্চারও সেই জিনিসে অ্যালার্জি থাকতে পারে বা ভিন্ন জিনিসে অ্যালার্জি তৈরি হতে পারে। 

খাদ্য ও ওষুধ

সমীক্ষা অনুযায়ী শুধু আমেরিকাতেই যে ৮ ধরণের অ্যালার্জি বেশি হয়ে থাকে তার তালিকা- 

– দুধ 

– ডিম 

– মাটির নিচে হওয়া চীনা বাদাম 

– গাছে হওয়া বিভিন্নরকমের বাদাম 

– সয়া পণ্য 

– গম

– মাছ 

– শেলফিশ (ঝিনুক, কাঁকড়া, চিংড়ি ইত্যাদি) 

উপরে বলা কিছু জিনিস নিয়ে এত উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই, বাচ্চাদের তেমন ক্ষতি করে না এগুলো। তবে বাচ্চাদের যখনই কোনো নতুন খাবার যেমন ডিম, দুধ, গম ইত্যাদি দেবেন খেয়াল রাখবেন কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা। 

পরিবেশগতঃ 

পরিবেশগত অ্যালার্জির কারণগুলো হলে – 

– পোষা প্রানী যেমন কুকুর, বেড়ালের পশম 

– মোল্ড/Mold 

– ডাস্ট মাইট যা সাধারণত তোষক/ ম্যাট্রেস ইত্যাদি জায়গায় থাকে

– ঘরদোর পরিষ্কার করার সামগী

– ডিটারজেন্ট 

– সাবান, শ্যাম্পু 

মৌসুমিঃ 

মৌসুমি অ্যালার্জি বছরেএ যেকোনো সময় জুড়েই হতে পারে। তবে বসন্তে যখন বাতাসে পরাগরেনু বেশি থাকে তখন এই অ্যালার্জি সমস্যা বেশি দেখা যায়।

কখন ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিৎ? 

যদি খুব কিঞ্চিৎই উপসর্গগুলো দেখা যায় এবং সেগুলো সহসাই চলে যায় তাহলে টুকে রাখবেন কেন বাচ্চার এই সমস্যাগুলো হচ্ছে, কী কারণ হতে পারে? বাচ্চা নতুন জায়গা বা পার্কে গেল কিনা, কোনো প্রানীর সংস্পর্শে এলো কিনা কিংবা আপনি ডিটারজেন্ট বা ঘর পরিষ্কার করার সামগ্রীতে পরিবর্তন এনেছেন কিনা বিষয়গুলো খেয়াল করবেন। 

সাময়িক অল্প উপসর্গের কারণে ডক্টর দেখাতে হবে না৷ কিন্তু ডক্টর এর কাছে পরবর্তী সময়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট এর সময় সেগুলো বলবেন কিংবা সে সমস্যা যদি আবারো হয় তবে ডক্টর দেখাবেন। 

যদি সমস্যা একদিনের ভেতর না কমে কিংবা অবস্থা আরো খারাপ হয় তাহলে আপনার বাচ্চার ডক্টর এর সাথে কথা বলে দেখবেন। ওষুধের অ্যালার্জির বেলাতেও এই পরামর্শ থাকবে। অ্যালার্জির তাৎক্ষণিক রিএকশন হলেও ডক্টর এর সাথে পরামর্শ করে নিতে হবে। 

যদি anaphylaxis এর লক্ষন প্রকাশ পায় তাহলে জরুরীভাবে বাচ্চাকে হাসপাতালে নিতে হবে। হাসপাতালে নিতে মোটেই ইতস্তত করবেন না কারণ আনাফ্যলাক্সিস জীবন নাশের কারণ হতে পারে।

বাচ্চার শরীরে অ্যালার্জি কেমন করে নির্ণয় করা যাবে? 

বাচ্চার শরীরে যে অ্যালার্জিই আছে শ্বাসযন্ত্রের বা অন্য কোনো সমস্যা নেই তা নিশ্চিত হওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে অ্যালার্জি টেস্ট সহ আরো কিছু টেস্ট। এসব টেস্টগুলো প্রয়োজন অনুসারে ডক্টর দেবেন। যদিও এই টেস্টগুলো বাচ্চাদের বেলায় একদম নির্ভুল রেজাল্ট পাওয়া যায় না। 

কিছু টেস্ট হয়ত আপনার বাচ্চার পেডিয়াট্রেশিয়ান দেবে এরপর দরকার হলে অ্যালার্জিস্ট এর কাছে সাজেস্ট করবে ৷ অ্যালার্জিস্টরা হলেন অ্যালার্জির জন্য স্পেশালিষ্ট ডক্টর। তারা বাচ্চার বয়স অনুযায়ী টেস্ট ও চিকিৎসা দেবেন। 

 ত্বক পরীক্ষা বা স্কিন টেস্ট

স্কিন টেস্টের সময় অতি ক্ষুদ্র অ্যালার্জেন কনা সূঁচের মাধ্যমে ত্বকের নিচে রাখা হয়। এটি percutaneous অথবা skin prick test নামে পরিচিত। তাছাড়া ডাইলুটেড অ্যালার্জেন সুঁই-এর মাধ্যমে ত্বকের অভ্যন্তরে প্রবেশ করিয়েও টেস্ট করা যায়, এটি intradermal test নামে পরিচিত। 

সিরিঞ্জের মাধ্যমে যে অ্যালার্জেন প্রবেশ করানো হলো সেটা ১৫ মিনিট পর্যবেক্ষণ করা হয়, সেখানের ত্বকে কোনোরকম পার্থক্য লক্ষ করা না গেলে অন্য অ্যালার্জেন দিয়ে আবার পরীক্ষা করা হয়। 

স্কিন টেস্ট তুলনামূলক নিরাপদ এবং ছয়মাসের উপরে যে কারো এই টেস্ট করানো যেতে পারে। বয়স ও অন্যান্য কারণে টেস্টের অ্যাকিউরিসির পার্থক্য থাকতে পারে ব্যক্তি ভেদে। 

রক্ত পরীক্ষা 

স্কিন টেস্টের মত অতটা সেন্সেটিভ না রক্ত পরীক্ষা। বাচ্চাদের বেলায় এই টেস্ট একটু সহজসাধ্য। তাছাড়া স্কিন টেস্ট নির্ভুল ভাবে নির্ণয় করা না গেলে ব্লাড টেস্ট করে বেটার রেজাল্ট পাওয়া যায়। অনেক সময় অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধের ফলে সঠিক ভাবে স্কিন টেস্টের ফলাফল পাওয়া যায় না। 

এলিমিনেশন ডায়েট টেস্ট 

সন্দেহযুক্ত অ্যালার্জেন পরিহারের মাধমে বাচ্চার অবস্থার পরিবর্তন কী হলো তা পর্যবেক্ষণ করা যায়। এটি সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এক সপ্তাহও লেগে যেতে পারে। তবে কিছু খাবার যেমন দুধের অ্যালার্জেন এড়িয়ে চলা অনেকসময় কঠিন হয়ে যায় কারণ অনেক খাবারেই দুধ থাকে।

বাচ্চাদের অ্যালার্জির চিকিৎসাঃ 

অ্যালার্জির প্রধান চিকিৎসা হলো অ্যালার্জেন আছে এমন জিনিসগুলো দূরে রাখা। যেমন কারাও যদি বেড়ালের পশমে অ্যালার্জি থাকে তাহলে তাকে বেড়াল থেকে দূরে রাখতে হবে। আবার কারো দুধে অ্যালার্জি থাকলে তার জন্য অন্যরকম ডায়েট রেডি করতে হবে। 

অনেক সময় মায়ের খাবারের অ্যালার্জেন বুকের দুধের মাধ্যমে বাচ্চার শরীরে যেতে পারে। তবে, আপনার শিশুর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাতে যে উপকারগুলি নার্সিং থেকে আসে (কমপক্ষে প্রথম ছয় মাস) তা সাধারণত সম্ভাব্য অ্যালার্জেনের কোনও পরোক্ষ প্রভাবকে ছাড়িয়ে যায়।

অ্যালার্জি চিকিৎসায় অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধের ব্যবহার বেশি দেখা যায়। এটি অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়াকে প্রশমিত করে করে। তবে বেশিরভাগ অ্যান্টিহিস্টামিন দুই বছর বয়স হওয়ার আগ পর্যন্ত দেয়া হয় না। 

বাচ্চাকে কোনো ওষুধ দেয়ার আগে অবশ্যই ডক্টর এর সাথে কথা বলে নেবেন। তাছাড়া ওষুধের সাথে দেয়া লেবেলটি ভালো করে পড়ে নেবেন বাচ্চাকে কোনো ওষুধ দেয়ার আগে। 

বাচ্চার ত্বকে অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন প্রতিরোধে Hydrocortisone cream (Cortizone) সহায়ক। আবারো বলছি, কোনো নতুন ওষুধ প্রয়োগ করার আগে বাচ্চার পেডিয়াট্রিশিয়ানের সাথে কথা বলে নেবেন। 

যদি কোনো খাদ্য বা পোকার কামড়ে বাচ্চার তীব্র অ্যালার্জি প্রকাশ পেয়ে anaphylaxis এর পর্যায়ে চলে যায় তখন হয়তো ডক্টর epinephrine (EpiPen) সাজেস্ট করতে পারে। এটি ইঞ্জেকশন-এর মাধ্যমে দেয়া হয়। জরুরি স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়া পর্যন্ত এটি বাচ্চার অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। 

অ্যালার্জি থেকে যেসব জটিলতা তৈরি হতে পারেঃ 

অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশনের মাধ্যমে সবচাইতে সিরিয়াস যে জটিলতা তৈরি হয় তা হলো anaphylaxis. 

বায়ুবাহিত অ্যালার্জেনের কিছু অ্যালার্জি হাঁপানির কারণ হতে পারে, যা শ্বাসকষ্টর কারণ। এই সমস্যা সাধারণত বাচ্চার এক বা দুইবছর বয়স পর্যন্ত দেখা যায় না। অ্যালার্জির কোনো লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পরও লম্বা সময় ধরে চিকিৎসা না করালে এটি শ্বাসকষ্ট বাড়িয়ে দিতে পারে। 

র‍্যাশ, হাইভস এসবও সাংঘাতিক হয়ে উঠতে পারে যদি ঠিক সময়ে চিকিৎসা না করানো হয়। 

অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়?  

অ্যালার্জিগুলি কখনও কখনও আজীবন বয়ে বেড়াতে হয় এবং নানারকম পদক্ষেপের মাধ্যমে কমিয়ে রাখতে হয়, একে একেবারে নিরাময় করা যায় না। যদিও শিশুদের মধ্যে অনেকগুলি অ্যালার্জির লক্ষণগুলি অনেকক্ষেত্রেই বয়স বাড়ার সাথে সাথে চলে যায়।

আপনার বাচ্চা অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে না আসা পর্যন্ত অ্যালার্জি কী হবে তা আপনি বলতে পারবেন না। এবং আপনি বেশিরভাগ অ্যালার্জি প্রতিরোধ করতে পারবেন না। আপনি জানার পর কেবলমাত্র ভবিষ্যতে অ্যালার্জির ঝুঁকি হ্রাস করার পদক্ষেপ নিতে পারেন। 

খাদ্য এবং ওষুধ 

ফুড অ্যালার্জির মূল বিষয় হ’ল ধীরে ধীরে বাচ্চাকে নতুন খাবার দেয়া। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যে সপ্তাহে প্রথম আপনার বাচ্চাকে একটি ডিম খেতে দেন, সেই সপ্তাহে অন্য কোনো নতুন খাবার দেবেন না। এবং ভালো করে লক্ষ্য করবেন এতে বাচ্চার অ্যালার্জি আছে কিনা। যদি অ্যালার্জির লক্ষণ প্রকাশ না পায় তবে বাচ্চাকে আরেকটি নতুন খাবারের সাথে বাচ্চাকে পরিচয় করিয়ে দিন। 

পরিবেশগত 

আপনার শিশু যদি অ্যালার্জি বা হাঁপানি হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে তবে জীবনের প্রথম দিকে শিশুকে ধূলিকণা থেকে যথাসম্ভব দূরে রাখুন। যা কিনা ভবিষ্যতে অ্যালার্জির সমস্যা, হাঁপানি রোধে সহায়তা করতে পারে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায় যে, শিশুকে যত তাড়াতাড়ি পোষা প্রাণীর সংস্পর্শে আনা যায় ততই অ্যালার্জি হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। 

ডাস্ট মাইট বা ধূলিকণা কমাতে, “allergen-impermeable” বিছানা ব্যবহার করুন এবং গরম পানিতে বিছানাপত্র ধোবেন তা নিশ্চিত করুন। 

তাছাড়া নিয়মিত ঘরদোর পরিষ্কার করলে পরিবারের সব সদস্যই ডাস্ট সেনসেটিভ হওয়া থেকে বেঁচে যেতে পারে। 

মৌসুমি 

যদি আপনি দেখেন যে আপনার বাচ্চার শুধু একটি নির্দিষ্ট ঋতুতেই অ্যালার্জির সমস্যা হচ্ছে তাহলে ওই সময়ের আবহাওয়ার খবর ভালোভাবে লক্ষ করুন এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিন। উদাহরণস্বরুপ, আপনার বাচ্চার যদি বছরের একটা সময়ে শুধু ফুলের রেনুতেই অ্যালার্জি থাকে তাহলে ফুলের রেনু থেকে যথাসম্ভব দূরে রাখুন বাচ্চাকে, দরজা জানালা বন্ধ করে রাখলে হয়তো সমস্যা কিছুটা কম হতে পারে। 

আপনি যত ভালোভাবে মৌসুমি অ্যালার্জি সম্পর্কে জানবেন, তত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারবেন যাতে বাচ্চাকে নিরাপদ রাখতে পারেন। 

সর্বশেষ 

বাচ্চার অ্যালার্জি হয়ত নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে, কিন্তু সেক্ষেত্রে আপনার রুটিনে কিছু পরিবর্তন আনতে হতে পারে। কখনো কখনো খাবারের অ্যালার্জি প্রতিহত করতে পরিবারের সবার খাদ্য তালিকারো দরকার হতে পারে। আপনাকে সজাক দৃষ্টি রাখতে হবে, বাচ্চা বা অন্য কোনো সদস্যর কোনো কিছুতে অ্যালার্জি থাকলে তার অন্য আরেকটি জিনিসেও অ্যালার্জি তৈরি হতে পারে। 

অ্যালার্জি প্রতিরোধ করতে আপনার বাচ্চার ডক্টর কিংবা বাচ্চাকে যারা দেখাশোনা করেন তাদের সবার সাথে আলোচনা করুন এবং যথাযথ পদক্ষেপ নিন।

This Post Has 3,327 Comments
  1. I’ve been exploring for a bit for any high quality articles or blog posts on this sort of area . Exploring in Yahoo I at last stumbled upon this website. Reading this information So i’m happy to convey that I have a very good uncanny feeling I discovered just what I needed. I most certainly will make sure to don’t forget this site and give it a look on a constant basis.

  2. I’m usually to running a blog and i actually admire your content. The article has actually peaks my interest. I’m going to bookmark your web site and preserve checking for brand new information.

  3. Hey there. I discovered your site by the use of Google at the same time as looking for a comparable topic, your web site came up. It looks great. I have bookmarked it in my google bookmarks to visit then.

  4. Appreciating the time and energy you put into your blog and in depth information you present. It’s awesome to come across a blog every once in a while that isn’t the same outdated rehashed information. Excellent read! I’ve bookmarked your site and I’m adding your RSS feeds to my Google account.|

  5. Do you have a spam issue on this site; I also am a blogger, and I was wondering your situation; we have created some nice methods and we are looking to trade methods with others, why not shoot me an email if interested.

  6. I’ve learn some just right stuff here. Definitely worth bookmarking for revisiting. I surprise how much effort you place to make such a magnificent informative website.

  7. I have seen that car insurance firms know the motors which are liable to accidents as well as other risks. In addition, they know what kind of cars are prone to higher risk along with the higher risk they may have the higher the particular premium rate. Understanding the straightforward basics regarding car insurance will assist you to choose the right type of insurance policy that should take care of the needs you have in case you happen to be involved in an accident. Many thanks for sharing a ideas on your blog.

  8. I have not checked in here for a while since I thought it was getting boring, but the last few posts are good quality so I guess I will add you back to my everyday bloglist. You deserve it my friend 🙂

  9. I have read several good stuff here. Definitely price bookmarking for revisiting. I wonder how much effort you set to create the sort of wonderful informative web site.

  10. Hello there, I do believe your website could possibly be having internet browser compatibility problems. When I look at your site in Safari, it looks fine however, if opening in Internet Explorer, it has some overlapping issues. I merely wanted to provide you with a quick heads up! Besides that, great blog!