fbpx
skip to Main Content
শিশুর ডাউন সিনড্রোম হয় যে কারণে

শিশুর ডাউন সিনড্রোম, কথাটার মাঝেই অদ্ভুত একটা আতংক, দিশেহারা ভাব লুকিয়ে আছে। লুকিয়ে আছে অসহায় বাবা মায়ের আকুল মুখ। জেনে নিই এই ডাউন সিনড্রোমের আদ্যোপান্ত।

ডাউন সিনড্রোম কিঃ 

কোষের মধ্যকার ক্রোমোজোমের ভেতরের ডিএনএকে বলা হয় বংশগতির ধারক ও বাহক। আমাদের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য যেমন আচার, আচরণ, বুদ্ধিমত্তা, চেহারা, উচ্চতা, গায়ের রং সবকিছুই এই ডিএনএর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। এই ডিএনএ বা ক্রোমোজোমের অসামঞ্জস্য হলে শারীরিক ও মানসিক ত্রুটি দেখা দেয়। এগুলো হলো জেনেটিক ত্রুটি। আমাদের দেশে কোনো কোনো শিশুর কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায় যেমন: মাংসপেশির শিথিলতা, কম উচ্চতা, চোখের কোনা ওপরের দিকে ওঠানো, চ্যাপ্টা নাক, ছোট কান, হাতের তালুতে একটি মাত্র রেখা, জিব বের হয়ে থাকা ইত্যাদি। এগুলো ডাউন সিনড্রোম।

কি কারণে ডাউন সিনড্রোম শিশুর জন্ম হয়:

ঠিক কি কারণে সিনড্রোম শিশুর জন্ম হয় তা সম্পূর্ণ জানা যায়নি। তবে একথা প্রমাণিত যে কোন নারী যত অধিক বয়সে মা হবেন, তার সন্তান ডাউন সিনড্রোম শিশু হবার সম্ভাবনাও তত বেশী হবে। যেমন ২৫ বছর বয়সের প্রতি ১২০০ জন গর্ভবতী মায়ের মধ্যে একজনের, ৩০ বছর বয়সের প্রতি ৯০০ জন মায়ের মধ্যে একজনের ডাউন সিনড্রোম  শিশু হতে পারে।

৩৫ বছর বয়সের পর ঝুঁকি দ্রুত বাড়তে থাকে। ৩৫ বছর বয়সের প্রতি ৩৫০ জন গর্ভবতী মায়ের মধ্যে একজনের এবং ৪০ বছর বয়সের প্রতি ১০০ জন মায়ের একজনের ডাউন শিশু হতে পারে। অধিক বয়সের মায়ের গর্ভে ডাউন সিনড্রোম  শিশু হবার সম্ভাবনা বাড়লেও যেহেতু যুবতী বয়সেই বেশীরভাগ নারী মা হয়ে থাকেন তাই যুবতী বয়সের মায়েদের মধ্যেই ডাউন সিনড্রোম  শিশু সচরাচর দেখা যায়। তার মানে যে কোন বয়সের মায়ের ডাউন সিনড্রোম  শিশু হতে পারে। অন্যদিকে কোন মায়ের আগে একটি ডাউন সিনড্রোম  শিশু থাকলে পরবর্তীতে ডাউন সিনড্রোম  শিশু হবার সম্ভাবনা বাড়ে। পরিবেশ দূষণ, গর্ভবতী মায়ের ভেজাল খাদ্যে ও প্রসাধনী গ্রহণ, তেজস্ক্রিয়তা ইত্যাদি কারণেও ডাউন সিনড্রোম  শিশুর জন্ম হতে পারে বলে ধারনা করা হয়। অনেক সময় বাবা-মা ক্রুটি যুক্ত ক্রোমোজমের বাহক হলে তাদের সন্তানও ডাউন সিনড্রোম  শিশু হতে পারে।

ডাউন সিনড্রোম  হওয়ার সম্ভাব্যতাঃ

বয়স্ক মহিলারা সন্তান নিলে এ রুগীর সংখ্যা বেড়ে জেতে পারে।যেমন-৩৫ বছর বয়সের মহিলার ক্ষেত্রে প্রতি ৩৫০ জন গর্ভবতী মায়ের মধ্যে ১জনের সন্তনের এ রোগ হতে পারে। আরও বয়স্ক হলে এর ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

​সুযোগ ও সচেতনতার অভাবে আমাদের দেশে এখনো বেশীরভাগ গর্ভবতী মা চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকতে পারেননা। অন্যদিকে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকলেও গর্ভবতী মাকে ডাউন সিনড্রোম  শিশু সম্পর্কে বা অন্য কোন জন্মগত ত্রুটি সম্পর্কে ধারণা দেয়ার ব্যপারটি উপেক্ষিত। তাছাড়া দেশের সব জায়গায় পরীক্ষা নিরীক্ষা করার সুযোগ নেই। তাই ডাউন সিনড্রোম  হওয়ার সম্ভাব্যতা বৃদ্ধি পায়।

ডাউন সিনড্রোমের চিকিৎসাঃ

কজন চিকিৎসক যে কোন বয়সের শিশুকে দেখেই ডাউন সিনড্রোম  শিশু কিনা তা সন্দেহ করতে পারেন। কারন তাদের কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক বৈশিষ্ট্য থাকে। বাবা মায়েরা যখন দেখেন তাদের সন্তানের চেহারা একটু ভিন্ন ধরনের, শিশুর গায়ে শক্তি কম, নির্ধারিত বয়সে বসতে, দাঁড়াতে বা হাঁটতে শিখছেনা, শারীরিক বৃদ্ধি কম, কম বুদ্ধি সম্পন্ন, তখন তারা চিকিৎসকের সরনাপন্ন হন। চিকিৎসক শিশুর রক্তের ক্রোমোজম সংখ্যা বা ক্যারিওটাইপিং পরীক্ষার মাধ্যমে ডাউন সিনড্রোম  শিশু কি না তা নিশ্চিৎ করেন।

১১ হতে ১৪ সপ্তাহের মধ্যে গর্ভবতী মায়ের রক্তে প্যাপ-এ, এইচসিজি এবং ১৬ হতে ২০ সপ্তাহের মধ্যে এএফপি, ইসট্রিয়ল, এইচসিজি ইত্যাদি রাসায়নিক পদার্থের মাত্রা পরীক্ষা করে ডাউন সিনড্রোম  শিশুর জন্ম হওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে ধারনা করা যায়। তাছাড়া আল্ট্রাসনোগ্রাফী করে মায়ের পেটে ১১ হতে ১৪ সপ্তাহের শিশুর ঘাড়ের পিছনের তরলের মাত্রা, নাকের হাড়ের উপস্থিতি, “ডাকটাস্ ভেনোসাস” নামক প্রাথমিক রক্তনালীর রক্তপ্রবাহ ইত্যাদি নির্নয়ের মাধ্যমেও ডাউন সিনড্রোম  শিশু জন্ম নেয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত মায়েদেরকে ডাউন সিনড্রোম  শিশুর নিশ্চিত পরীক্ষা করার উপদেশ দেয়া হয়।গর্ভাবস্থার ১১ হতে ১৪ সপ্তাহের মধ্যে প্রাথমিক গর্ভফুল হতে কোষকলা সংগ্রহের মাধ্যমে অথবা ১৫ হতে ১৮ সপ্তাহের মধ্যে গর্ভের বাচ্চার চারপাশের তরল পদার্থ সংগ্রহের মাধ্যমে বাচ্চার ডিএনএ পরীক্ষা করে গর্ভের বাচ্চাটি ডাউন শিশু কি না তা ১০০ ভাগ নিশ্চিত করা যায়। এ সময় বাচ্চার আকার হয় প্রায় ২-৪ ইঞ্চির মতো। কাজেই রিপোর্ট অনুযায়ী বাবা-মা গর্ভাবস্থা চালিয়ে যাওয়ার ব্যপারে নিশ্চিৎ হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

ডাউন সিনড্রোম শিশুর যত্নঃ 

ডাউন সিনড্রোম  আক্রান্ত বাচ্চাদের সামাজিক এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে কার্যকর করার জন্য আলাদাভাবে প্রতিষ্ঠান, স্কুল, স্বাস্থ্য সেবা, কর্মস্থল, বিনোদন ক্ষেত্র তৈরী করতে হবে। এ সব বাচ্চাদের হাল্কা থেকে গুরুতর বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক বিকাশ গত সমস্য থাকতে পারে। এদের জ্ঞান হালকা থেকে মাঝারি ধরনের হয়ে থাকে।তাই এদেরকে অন্যদের মত কঠোর ভাবে শাসন করা যাবেনা। এদেরকে খুব আদর ও যত্নে বড় করতে হবে এতে আস্তে আস্তে সে মানসিক ভারসাম্য ফিরে পাবে। কিছু সমস্যা থাকলেও পরিস্থিতি মোকাবেলা করার দক্ষতা তার অর্জন হবে।

This Post Has 306 Comments
  1. After examine just a few of the weblog posts on your website now, and I actually like your method of blogging. I bookmarked it to my bookmark website list and will probably be checking again soon. Pls check out my website as effectively and let me know what you think.

  2. excellent points altogether, you just gained a brand new reader. What could you recommend in regards to your post that you just made some days ago? Any certain?

  3. Please let me know if you’re looking for a article author for your site. You have some really good posts and I feel I would be a good asset. If you ever want to take some of the load off, I’d really like to write some content for your blog in exchange for a link back to mine. Please shoot me an email if interested. Regards!

  4. I’ve been absent for some time, but now I remember why I used to love this website. Thanks , I¦ll try and check back more often. How frequently you update your web site?

Leave a Reply

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!