fbpx
skip to Main Content
স্তন ক্যান্সার থেকে বেঁচে থাকুন

আজ থেকে ১০০ বছর আগে যদি কাউকে জিজ্ঞেস করা হত যে আপনি কি স্তন ক্যান্সারের ব্যাপারে কিছু জানেন? তাহলে অধিকতর উত্তর হতো সেটা আবার কি!! কিন্তু আজ এই উন্নত পৃথিবিতে সব নারীদের মুখে একটি ভয়াবহ অসুখের নাম স্তন ক্যন্সার।

স্তন ক্যানসার কী?

স্তনের কিছু কোষ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে ঐ অনিয়মিত ও অতিরিক্ত কোষগুলো বিভাজনের মাধ্যমে টিউমার বা পান্ডা পরিণত হয়। বাংলাদেশের নারীরা যেসব ক্যান্সার আক্রান্ত হন তার মধ্যে স্তন ক্যানসার শীর্ষে রয়েছে। বাংলাদেশে ব্রেস্ট ক্যান্সার সচেতনতার অভাবের জন্য বেশির ভাগ রোগীই শেষ পর্যায়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

মাতৃত্বের সাথে যে বিষয়টি ওতপ্রোত ভাবে জড়িত সেটাকে কিভাবে আপনি এড়িয়ে যাবেন বলুন। আজকের সাড়া বিশ্বে প্রতিদিন হাজার হাজার নারি স্তন ক্যন্সার আক্রান্ত হচ্ছে। এর কারন একটাই আমাদের জীবন ধারা উন্নত হয়েছে তাই। এই স্তন ক্যন্সারের বিশেষ বয়সসীমা নেই তবে ২০-৩০ বছর বয়সী যুবতীরা এই রোগের  শিকার হন। তবে ৩০-৫০ বছর বয়সীরা এই রোগের শিকার হন সবচেয়ে বেশি।

লক্ষণ বা উপসর্গঃ

স্তনের কোন অংশ চাকা চাকা হয়ে যাওয়া অথবা কোন লাম্প দেখা যাওয়া

স্তনের আকার বা আকৃতির পরিবর্তন

স্তনবৃন্তের আকারে পরিবর্তন

স্তনবৃন্ত থেকে রক্ত বা তরল পদার্থ বের হওয়া

স্তনবৃন্তের আশেপাশে রাশ বা ফুসকুড়ি দেখা যাওয়া

বগলে ফুলে যাওয়া বা চাকা দেখা দেয়া

স্তনের ভেতরে গোটা ওঠা বা শক্ত হয়ে যাওয়া

স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার কারণঃ 

বিশ থেকে নব্বই বছর বয়সে এটা সাধারণত হয়। যাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মা, খালা, বোন বা নানীর স্তন ক্যান্সারের আক্রান্ত হবার ইতিহাস আছে তাদের ঝুঁকি বেশি।

পরিসংখ্যান বলছে- শতকরা পাঁচ ভাগ জেনেটিক মিউটেশন এর জন্য এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। এছাড়া অতিরিক্ত অ্যালকোহল খেলে ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় অতিরিক্ত ওজন। দীর্ঘদিন ধরে হরমোন থেরাপি গ্রহণ। আগে রেডিয়েশন পাওয়া রোগী ইত্যাদি কারণ রয়েছে।

স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় যে সকল কাজঃ 

মহিলাদের স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি পুরুষদের চেয়ে বেশি।

যত বয়স বৃদ্ধি হতে থাকে, স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি ততোই বাড়তে থাকে। অল্প বয়সের মহিলাদের চেয়ে বয়স্ক মহিলাদের বিশেষ করে ৫৫ বছরের বেশি বয়সী মহিলাদের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।

পূর্বে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকলে : যদি কারো পূর্বে একটি স্তনে ক্যান্সার হয়ে থাকে, তবে তার অন্য স্তনেও ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

পরিবারে স্তন ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে : যদি কারও মা, বোন অথবা মেয়ের স্তন ক্যান্সার হয়ে থাকে তবে তার স্তনে ক্যান্সারের আশঙ্কা অনেক গুণ বেশি। তবে স্তন ক্যান্সার ধরা পড়েছে, এমন ব্যক্তিদের অধিকাংশরই কোনো পারিবারিক ইতিহাস নেই।

তেজস্ক্রিয়তা : শিশু অথবা তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক তেজস্ক্রিয়/বিকিরণ রশ্মি দিয়ে চিকিৎসা করলে পরবর্তী জীবনে তার স্তন ক্যান্সারের বিকাশের সম্ভাবনা থাকে।

স্থূলতা : মাত্রাতিরিক্ত ওজন (অথবা মোটা) স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। চর্বি ইস্ট্রোজেন হরমোন উৎপাদন করে, যা ক্যান্সারের জ্বালানি হিসেবে কাজ করে।

তাড়াতাড়ি ঋতুস্রাব : ১২ বছর বয়স হওয়ার আগে ঋতুস্রাব হলে তা স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

দেরিতে মেনোপজ : ৫৫ বছর বয়সের পর যদি মেনোপজ হয়, তা স্তন ক্যান্সারের বিকাশ ঘটাতে পারে।

দেরিতে গর্ভধারণ : ৩৫ বছরের পরে যদি কোনো মহিলা প্রথম সন্তান জন্ম দেয় তবে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

হরমোন চিকিৎসা : ঋতুজরার লক্ষণ ও উপসর্গ সমূহের জন্য যেসব মহিলা ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরনে মিলিত হরমোনের চিকিৎসা নেন, তাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি থাকে।

মদ্যপান : অতিরিক্ত মদ্যপান স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

স্তন ক্যন্সারের জন্য এখন অনেক ধরনের প্রযুক্তি আছে । কোন রকমের সমস্যায় আপনি অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন। তাছাড়া বাড়িতে যে সকল খাবার দাবারের মাধ্যমে স্তন ক্যন্সার নিরাময় করতে পারবেন তার কিছু খাবারের নাম নিচে দেয়া হলো।

ডালিমঃ 

স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে ডালিম বিশেষ সহায়ক। ডালিমে রয়েছে পলিফেনল নামক এলাজিক অ্যাসিড এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান। এটি ক্যান্সারের বৃদ্ধি প্রতিরোধে সাহায্য করে। স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য এই ফলটি প্রতিদিন খাবার তালিকায় যোগ করুন।

রসুন/অলিয়ামঃ

ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার উপাদান ‘অ্যালিয়াম’। এটি রসুনে উচ্চ মাত্রায় থাকে। রসুন ছাড়াও এই ধরনের অন্যান্য মসলা যেমন- পেঁয়াজ, পেঁয়াজজাতীয় গাছেও এই উপাদান থাকে।

এগুলো টিউমারের বৃদ্ধি রোধ ও কোলোরেক্টাল ও প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। প্রতিদিন সকালে একটি রসুন খেলে সারাজীবনের জন্য ক্যান্সার থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করে।

সবজিঃ

গাড় সবুজ পাতার সবজি যেমন, পাতাকপি, পালংশাক ইত্যাদি স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধের ‘ওয়ান স্টপ শপ’ হিসেবে বিবেচিত। এছাড়া দেহের জন্য প্রয়োজনীয় আঁশ, ভিটামিন বি, ফাইটোকেমিকল, ক্লোরোফিল ইত্যাদি মিলবে এ সবজিতে।

মাছঃ

স্যামন মাছে রয়েছে ওমেগা-থ্রি এবং ভিটামিন বি-টুয়েল্ভ, ভিটামিন ডি। এটি শরীরের পুষ্টি সরবারহ করে এবং কোষের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

তরকারিতে হলুদ ব্যবহার করাঃ 

হলুদে থাকে কারকিউমিন যা ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সহায়ক। এটি স্তন, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল, ফুসফুস এবং ত্বকের ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। এক চিমটি হলুদ অনেক কঠিন ক্যান্সারের কোষের বিরুদ্ধেও কাজ করে।

এভাবেই আপনি নিজেই নিজের বাড়িতে থেকে নিজের স্তন ক্যন্সারের বিরুদ্ধে লড়তে পারবেন। নিয়মিত পরিমিত জীবন জাপনে যে কোন রোগ থেকে মুক্তি  পেতে পারেন ।

This Post Has 4 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!