fbpx
skip to Main Content
হঠাৎ রক্তক্ষরণ কেন হয় জরায়ু থেকে

প্রাকৃতিক কিছু বিশেষ নিয়মাবলি সৃষ্টিকর্তা তিনি আমাদের মেয়েদের মাঝে দিয়েছেন। এটা অতি স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের দেশের অজ্ঞতা আর কুসংস্কার দিনদিন এটিকে ভয়ঙ্কর রুপ দিচ্ছে। একসময় মহিলাদের জটিল রোগের চিকিৎসার ব্যবস্থা তেমন উন্নত ছিলোনা কিন্ত এখন তো পরিপূর্ণ উন্নত চিকিৎসা আছে কিন্তু ভয় এবং কুসংস্কার মোটেও দূর হয়নি। নারির জরায়ু থেকে রক্ত ক্ষরণ এটি খুবই সাধারন কেননা পৃথিবীর সকল নারীই এটির সম্মুখীন হয়। তাই এই বিষয়ের সমস্যার সমাধান অবশ্যই আপনাকে জানতে হবে ।

জরায়ুর অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ কী?

জরায়ুর অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ বা অ্যাবনরমাল ইউটেরাইন ব্লিডিং নিয়ে কথা বলতে গেলে শুরুতে স্বাভাবিক রক্তপাত নিয়ে কথা বলতে হবে। তাহলে সবার জন্য বুঝতে সুবিধা হবে।

একজন মেয়ে যখন সুস্থ থাকে, তখন দেখা যায়, আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে ১১ থেকে ১৩ বছর বয়সের মধ্যে ঋতুস্রাব শুরু হয়ে যায়। জরায়ু থেকে পাঁচ-সাত দিন পর্যন্ত রক্তক্ষরণ হবে। ৫০ থেকে ৮০ মিলিলিটার হয়। অল্প ব্যথা হতে পারে। একে বলি স্বাভাবিক রক্তপাত।

এই স্বাভাবিক রক্তপাতে যদি অস্বাভাবিক কিছু দেখা যায়, তাকে সাধারণত আমরা অ্যাবনরমাল ইউটেরাইন ব্লিডিং বলি। যেমন কারো ঋতুস্রাবের ক্ষেত্রে যদি অনেক রক্ত যায়, ৫০ থেকে ৮০ মিলিলিটারের বেশি যদি যায়, তাহলে সেটি অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ। কিংবা প্রচণ্ড ব্যথা হচ্ছে, সে তার দৈনন্দিন কাজ করতে পারছে না, একে বলা হয়  ডিমেনোরিয়া। এটি হলে সেটিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক। এরপর যদি দেখা যায় সেই রক্তপাত পাঁচ থেকে সাত দিন না হয়ে মাত্র একদিন হচ্ছে কিংবা ১০ থেকে ১২ দিন হচ্ছে, সেটিও অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ। সাধারণত ২১ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে ঋতুস্রাব হয়। একে স্বাভাবিক বলি। কিন্তু কারো যদি ২১ দিনের আগেই আবার হয় বা দ্বিতীয় চক্র ৩৫ দিনের পরে হয়, একে আমরা অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ বলি।

অস্বাভাবিক রক্ত ক্ষরণের কারনঃ 

বিশেষ করে এই জাতীয় অস্বাভাবিকতাকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। একটি হ’ল প্রজনন সিস্টেমের বিভিন্ন অঙ্গগুলির শারীরবৃত্তীয় সমস্যা , যেমন প্রদাহ , টিউমার বা ক্যান্সার । অন্য একটিকে আমরা অকার্যকর জরায়ুর রক্তপাত বলতে পারি , যেখানে কোনও শারীরবৃত্তীয় সমস্যা নেই , সমস্যাটি ঋতুস্রাবর ক্রিয়াকলাপে রয়েছে ।

এই ক্ষেত্রে নিয়মিত ঋতুস্রাব ব্যাহত হয় এবং প্রচুর রক্তপাত হয় । প্রথম ক্ষেত্রে , ডিম্বাশয় , জরায়ু , যাোনি বা যাোনিতে যে কোনও ধরণের রাোগ অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ ঘটায় । তবে এক্ষেত্রে মাসিক নিয়মিত হয় । এই জায়গাগুলিতে দেখা যায় এমন প্রধান রাোগগুলি হ’ল সার্ভিকাল পলিপ , জরায়ু ক্ষয় , ক্যান্সার , জরায়ু টিউমার , রক্ষিত প্লাসেন্টা , এন্ডাোমেট্রাইটিস , ডিম্বাশয়ের টিউমার ইত্যাদি

এই রাোগগুলি সম্পর্কে সাধারণ ধারণা দেয়া হলোঃ 

সাইটোলজি অথবা প্যাপ টেস্ট | জরায়ুতে ক্যান্সার নির্ণয়ের জন্য এই পরীক্ষা করা হয় । এটি একটি খুব সহজ এবং সাশ্রয়ী পদ্ধতি এবং এটি করতে কয়েক মিনিট সময় লাগে । ৩০ বছরের বেশি বয়সী সমস্ত মহিলাদের প্রতি ছয় মাসে একবার এই পরীক্ষা করা উচিত । অন্যান্য পরীক্ষার মধ্যে রক্তের পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা নির্দিষ্ট রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা আছে কিনা তা দেখার জন্য । এছাড়াও ল্যাপারাোস্কোপি , ক্যালডাোস্কোপি , হিস্টেরাো সালফিংগাোগ্রাফি এই পরীক্ষাগুলি প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক রাোগ নির্ণয়ের জনাওঁৰাবহার করা যেতে পারে । রাোগ নির্ণয়ের মাপকাঠি | জরায়ুতে অস্বাভাবিক রক্তপাতের কারণ । ক্যান্সার বা অন্যান্য শারীরিক কারণগুলি নিশ্চিত করতে সমস্ত রাোগীদের পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ক্লিন করা দরকার । অল্প বয়সী মেয়েদের জরায়ু রক্তপাতজনিত অকার্যকর সম্ভাবনা বেশি থাকে । রক্তপাতকে সর্বদা সন্দেহের সাথে দেখা উচিত , বিশেষত তাদের চল্লিশ এবং পঞ্চাশের দশকের মহিলাদের মধ্যে । কারণ এটি ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে । একটি সম্পূর্ণ পরীক্ষার মাধ্যমে বেশিরভাগ ক্ষেমে রাোগ নির্ণয় করা সম্ভব ।

প্রজনন ব্যবস্থার বিভিন্ন অঙ্গগুলির সাথে হরমাোন এবং সমস্যা ছাড়াও শরীরের অন্যান্য অঙ্গগুলি এজাতীয় অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণে ভূমিকা রাখে যেমন : থাইরয়েড বা পিটুইটারি গ্রন্থির বিভিন্ন রাোগা হার্ট ফেইলিওর , হাইপারটেনশন ইত্যাদি ।

অস্বাভাবিক রক্ত ক্ষরনে করনীয়ঃ 

যদি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা যায় শারীরবৃত্তিক কারণেই অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ হচ্ছে , তবে চিকিৎসাও সেভাবেই করা উচিত । প্ল্যাসেন্টা , রিটেইনড , পলিপ , ফাইব্রয়েড ইত্যাদি ক্ষেত্রে অপারেশন দরকার হয় । মেডিসিনে এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ । যদি মেনাোপজের সময় বা পরে এ জাতীয় অবস্থা দেখা দেয় তবে জরায়ু অপসারণ করা ভাল । সেক্ষেত্রে কোনও দ্বিধা থাকার কথা না । ক্যান্সারের ক্ষেত্রে বড় ধরনের শল্য চিকিতসা সম্ভব নয় । তারপরে রেডিওথেরাপি বা কেমাোথেরাপির মাধ্যমে চিকিতসা সম্ভব ।

অল্প বয়সী মেয়েদের মধ্যে অস্বাভাবিক রক্তপাত বেশিরভাগ কার্যকরী , রাোগীর বিশ্রাম প্রয়াোজন এবং আশ্বাস যথেষ্ট বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি বয়সের সাথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরাময় করে । ঘাটতি হলে আয়রন , ভিটামিন – বি কমপ্লেক্স ইত্যাদি দিতে হবে।

This Post Has 15 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!