fbpx
skip to Main Content
পারিবারিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করুন

ছোট বেলায় পরিবারের সংজ্ঞা পড়েছি বইতে, মা বাবা ভাইবোন মিলে হয় পরিবার আর একাধিক পরিবার মিলে হয় একটি গোষ্ঠী। কারো পরিবার এই চারজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ আবার কারো পরিবার অনেক বড় হয়। পৃথিবীতে মানুষের বসবাসের জন্যই কেবল পরিবার তৈরি হয়েছে। একজন মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় সুখ হলো একটি সুখী পরিবার পাওয়া।

আবার যদি বলা হয় সুখী পরিবার বলতে কি বুঝি আমরা! সুখী পরিবার হলো যে পরিবারের মানুষ গুলো সবাই সবাইকে বোঝে এবং সকলের মধ্যে একটা অটুট বন্ধন আছে যে মায়ার কারএ কেবল একজনের সুখে সবাই সুখী আবার একজনের দুঃখে সবাই দুঃখী ।

মানুষের জীবনে সবচেয়ে কঠিন সময় হলো পারিবারিক কলহর সময়। যেখানে আপন মানুষ গুলো সবাই সবার সাথে লড়তে থাকে। হ্যাঁ, পরিবারে একটু আকটু বিবাধ থাকবে আর এতেই সবার মধ্যে ভালবাসা জন্মাবে কিন্তু সেটা মাত্রার বাইরে গেলে সবার জীবনই দুর্বিসহ হয়ে পরে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে ক্ষতি হয় বাচ্চাদের। তাদের মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হয় । তারা অনেক সময় ডিপ্রেসনে চলে যায় আবার অনেকে সুইসাইডও করে ফেলে। তাই পারিবারিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করা খুবই প্রয়োজন।

পারিবারিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে কিছু কাজঃ

১ ) অনলাইন পারিবারিক আয়োজন : 

দেখুন এখন ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন প্রত্যান্ত গ্রামাঞ্চলেও এভেইলাবল তাই অনলাইনেই পারিবারিক একটা খেলাধুলো মিটিং আয়োজন করতে পারেন যেমন অনলাইন গেইম, অনলাইনের গানের আসর , ভিডিও তে পরিবারের সবাই একটু করে তাদের প্রতিভা  প্রকাশ করা। এভাবেই সবার মাঝে তৈরি হয় বন্ধন।

২ ) পিকনিক আয়োজন : 

বন্ধন দৃঢ় করতে এটি সবসময়ই ফলপ্রসু একটি উপায় , যা বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক বন্ধন তৈরিত প্রায়সই আয়োজন করা হয় । কিন্তু ফ্যামিলি পিকনিক করতে আমরা খুব একটা আগ্রহী নই । পারিবারিক পিকনিক আয়োজন করার জন্য দূরে কোথাও না গেলেও চলবে , এমনকি আপনার বাড়ির ছাদে বা আঙিনাতেও হতে পারে , বারবিকিউ পার্টি করেও একটা সুন্দর ফ্যামিলি পিকনিক করা যেতে পারে । পিকনিকে যেন সবাই কাজ করার সুযোগ পায় সেটা নিশ্চিত করুন , তাহলে দেখবেন কি সুন্দর একটা দৃশ্য আপনার সামনে চিত্রায়িত হয়েছে। এবং পিকনিক শেষে সবার মাঝে একটা ভাল বন্ডিং হয়ে যাবে।

৩ ) সকালে কিংবা বিকেলে একটু সকলে মিলে হাটা :

হাটা ফিটনেসের জন্য খুবই উপকারী । হাটার কারণে রক্তচলাচল স্বাভাবিক থাকে , হৃৎপিন্ড ভাল থাকে এবং ওজন হ্রাস পায় । কিন্ত পরিবারের সাথে হাটলে একসাথে প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করার সুযোগ পাবেন যা পরস্পরের মাঝে সম্পর্ক সুন্দর দৃঢ় করতে সাহায্য করবে ।

৪ ) পারিবারিক সম্পর্ক গাঢ় করতে ফ্যামিলি ট্যুর : 

অনেকেই পিকনিক আর ট্যুরের পার্থক্য বোঝে না। যদি একদিনের মধ্যেই হয় তবে পিকনিক আর দুই থেকে যতদিন সেটা ট্যুর । তাছাড়া  আমরা আজকাল অনেক বেশি পর্যটন প্রিয় হয়ে উঠেছি , কিন্তু পরিবারকে সাথে নিয়ে ট্যুর দেওয়ার চিন্তায় পিছিয়ে রয়েছি । একসাথে নতুন জায়গায় নতুন নতুন মোমেন্ট তৈরির এমন সুযোগ আর হয়না । ফ্যামিলি ট্যুরে কখনো এক জায়গায় বারবার যাবেন না । প্রতি বছর একবার হলেও নতুন কোন জায়গায় ঘুরে আসুন । পারিবারিক ট্যুর সবার মন ফ্রেশ করে তুলবে যা আগামী দিনগুলোতে সতেজ রাখতে সাহায্য করবে ।

৫ ) পরিবারের সবাই মিলে বাগান তৈরি করুন : 

প্রকৃতি সবসময় আমাদের মনকে ভাল রাখে। কারন প্রকৃতিতে বায়ুর সাথে মিশে আছী নাইট্রোজেন যা আমাদের মন ভাল করতে সাহায্য করে। তাই বাগান আমাদের মনকে সতেজ এবং প্রফুল্ল করে । আশে – পাশে বাগান থাকলে সজীব অক্সিজেন পাওয়া যায় , কার্বনে সয়লাব এই যুগে যা একান্ত প্রয়োজন । একসাথে বাগান করা , কঠোর পরিশ্রম , পরিচর্যা এবং অবশেষে যখন সাফল্য দেখতে পারেবেন তখন আপনার মনে শেয়ারিং এর একটি সুন্দর স্মৃতি তৈরি হবে । বাচ্চারা আপনার আরো কাছে চলে আসবে , প্রতিদিন একসাথে নিজেদের সাফল্য উদযাপন এবং উপভোগ করার সুযোগ তৈরি হবে ।

এভাবেই অল্প অল্প করে আপনি আপনার পরিবারের সকলের মাঝে বন্ধন তৈরি করতে পারেন। এই পদ্ধতিতে দেখবেন সবাই আস্তে আস্তে আরো বেশি আন্তরিক হয়ে উঠছে সবার প্রতি।

This Post Has 10 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!