fbpx
skip to Main Content
ব্যস্ততা বনাম পরিবারে কোয়ালিটি টাইম

ব্যস্ততা আমায় দেয় না অবসর।

নগরকেন্দ্রিক ব্যস্ত জীবনে আজকাল সবচেয়ে বড় যে চ্যালেঞ্জটি তার নাম “সময়”। ক্যারিয়ার কে সামনে এগিয়ে নেয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিকতা রক্ষা, সন্তানের বা অনেক সময় নিজের পড়াশোনা থেকে শুরু করে অসুখ বিসুখে ডাক্তার/হাসপাতাল দৌড়াদৌড়ি, এগুলোর মাঝেই কিভাবে দিন মাস বছর পার হয়ে যায় আর আমরা জীবনের এক একটা অধ্যায় শেষ করে আমাদের অর্জনগুলো সময় গর্ভে বিলীন করি।

এই ব্যস্ততার অজুহাতে অনেক কিছু করা হয়ে ওঠে না আমাদের।  অনেক পরিকল্পনাই বাস্তবের দেখা পায় না শেষমেশ। আর এই ”ব্যস্ততা” নামক শিকারীর অন্যতম প্রিয় শিকার হচ্ছে আমাদের বাচ্চারা। এই নিয়ে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী সব বাবা-মায়েরাই কমবেশি অপরাধবোধে ভোগেন। এদিকে বাস্তবতাও কিন্তু মোটেই ছাড় দিতে রাজি নয়।

আসলে ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালান্সটাই হচ্ছে মূল ব্যাপার। বাচ্চার সাইকোলজি বুঝে তাকে অল্প হলেও নিয়মিত কোয়ালিটি টাইম দিতে পারলে বাচ্চাও আপনার ব্যস্ততা বুঝবে এবং আপনার কাজের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে বলে আশা করা যায়। এখন প্রশ্ন হলো,  কিভাবে এই কোয়ালিটি টাইম দেবেন সন্তানকে? যার প্রভাব আপনার সন্তানের আচার আচরণে পরবে। আপনার সন্তান হবে উৎফুল্ল ও গঠনশীল। শিশুর মন ও মননে থাকবে মা-বাবার সাথে কাটানো স্বচ্ছ ও সুন্দর সময়ের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব।

একজন মা এর গল্প:

মিলা সবসময়ই চায় বাচ্চাদের জন্য খুব অন্যরকম কিছু করতে। যেহেতু ওকে নয়টা পাচটা অফিস করতে হয়, তাই ও খুব করে চায়, বাসায় ফেরার পরের সময় টুকু যেন এক্সক্লুসিভলি বাচ্চারা পায়।

কিন্তু বাস্তবতা সত্যি আরেকরকম। বাসায় ফিরতে ফিরতে ঘরের জন্য বাজার, সাংসারিক নানা দায়িত্ব, সামাজিকতা রক্ষার দায়বদ্ধতা, নানান ঝুটঝামেলা লেগেই থাকে। এছাড়া শরীরের ক্লান্তি তো আছেই। সব কাজ শেষ করার পর যখন ওদের পড়া দেখতে বসে, ক্লান্তিতে ওর চোখ বুঁজে আসে।
এমন করেই দিন গুলো পার হয় আর অপরাধবোধে মিলার মনটা আরো ম্রিয়মাণ হতে থাকে।

তাই এবার ঈদের ছুটিটায় ও নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলো যেভাবেই হোক সময় টা কে এমনভাবে কাজে লাগাবে যেন বাচ্চারা অনেকদিন মনে রাখে।মিলা বাচ্চাদের জন্য একটা গেইম শো এর আয়োজন করলো। অংশগ্রহনকারীর তালিকায় ছিল ওরা তিন মা-বেটা আর ওদের সাহায্যকারী মেয়েটি, মোট চারজন। সাড়ে চার আর সাত বছরের দুই শিশুর উপযোগী করে অনেক ভেবেচিন্তে তিনটা খেলার পরিকল্পনা করলো।

১. বল ঝুড়িতে ফেল

মিলা খেলা টার একটা গাল ভরা নাম দিয়েছে বাচ্চাদের জন্য। থ্রো দ্যা বল রাইট ইনটু দ্যা বাস্কেট। প্রত্যেকের জন্য বরাদ্দ সময় ত্রিশ সেকেন্ড। যে বেশি সংখ্যক বল ফেলতে পারবে সেই বিজয়ী।

২.  ফুঁ এর শক্তি দেখাও

চারটি রঙিন পেন্সিল রাখা চারজনের সামনে। বেশ অনেকটা দূরে ফিনিশিং লাইন তৈরী করেছে বাচ্চারাই ওদের খেলনা গাড়িগুলো পরপর সাজিয়ে। সবাই হাঁটু গেরে বসে আছে স্টার্টিং পয়েন্টে। কাউন্ট ডাউন শুরু হলো। থ্রি.. টু..ওয়ান বলতেই সবাই মুখ ফুলিয়ে ফুঁ দেয়া শুরু করলো। সে এক দেখার মতো দৃশ্য।

৩. পায়ের আংগুলে দেখি কতো খেলনা তুলতে পারো?

পিক টয়েস উইথ ইয়োর টোওস এই হচ্ছে নাম। মিলা প্রথমেই চারটি বড় ঝুড়ি রাখলো। এবার বাচ্চাদের কে বললো ওদের সব খেলনা গুলো থেকে বেছে বেছে ছোট গুলো আলাদা করতে। ওরা মহা উৎসাহে কাজে নেমে গেলো।  এরপর চারটে ঝুড়ির সামনে গুনে গুনে সমান সংখ্যক খেলনা রাখলো। সবাই একদম প্রস্তুত।
মিলা খেলার নিয়ম টা আরেকবার সবাইকে বুঝিয়ে বললো। কোনভাবেই হাতে কোন খেলনা ধরা যাবে না। নির্ধারিত ত্রিশ সেকেন্ড এর মধ্যে যে যত বেশি খেলনা ঝুড়ি তে রাখতে পারবে সে হবে বিজয়ী।

থ্রি.. টু..ওয়ান..  স্টার্ট!

প্রতিবার ই টাইমার অন করার পর শুরু হয় ধুন্ধুমার কারবার। এমন হইচই চেঁচামেচি! বাচ্চাগুলো তুমুল মজা পেয়েছে।

ঈদের মাস খানেক পরের এক রাতে ঘুমুতে যাবার আগে বাচ্চাদের সাথে গল্প করার সময়, মা সেদিনের গেইম শো এর গল্পটা আরেকবার বলো না, অনেক দিন তো  শুনি না… ছোট টার আব্দারে মিলা চোখ বড় বড় করে তাকালো। এই সেদিন ও না বললাম!

প্লিজ মা আবার বলো…

তৃপ্তিতে চোখ বুঁজলো মিলা।

This Post Has 1,970 Comments
  1. whoah this blog is wonderful i really like reading your articles. Keep up the great paintings! You realize, a lot of people are hunting round for this info, you could help them greatly.