fbpx
skip to Main Content
রান্নায় মসলার পরিমান

বাঙালিদের ঐতিহ্যের সাথে একটা কথা আছে রসনা বিলাসী। দশম শ্রেণীতে থাকি তখন বাংলা স্যার বুঝিয়েছিলেন এর মানে কি। স্যারের ভাষায় বলতে পারছিনা কারন বেশ রাগ ছিল স্যারের এই বিষয়টি নিয়ে। অর্থাৎ ঘরের একাংশের বেড়া নেই কিন্তু তড়কারি রাধার ক্ষেত্রে নাকি দু-চার বাড়িতে ঘ্রান পৌছে যেত এমন অবস্থা। বাঙালিরা যে যেমনই থাকুকনা কেন তাদের জিবের স্বাদ না মিটলে তাদের প্রশান্তি নেই।

সকল স্বাদের মূলেই আছে মসলা। আবার স্বাস্থ ভাল খারাপের কারন ও এই মশলা। আপনি যদি ঠিকঠাক পরিমান মত সঠীক কোম্ব প্যাক মসলা দিয়ে রান্না করতে পারেন তবেই কেবল আপনি রাধুনী হিসেবে সফল।

কোন মশলা গুলো আপনি কেন ব্যবহার করবেন তার একটু ধারনা দেই। কেননা আমরা যারাই রান্না করি গতানুগতিক শেখা থেকেই রাধি বাকি একটু জানা থাকলে পরিবারের স্বাস্থটা ভাল থাকে।

দারুচিনি: আপনি জেনে হয়ত অবাক হবেন দারুচিনির নির্যাস থেকে তৈরি হয় বেশ কিছু দামি ওষুধ ও সুগন্ধি। ভালো মানের দারুচিনিতে থাকবে মিষ্টি একটা গন্ধ এবং এর স্বাদ হবে ঝাঁঝালো মিষ্টি। অনেক সময় অন্য গাছের ছাল রঙ করে এবং দারুচিনির নির্যাস স্প্রে করে সেটাকে দারুচিনি বলে চালিয়ে দেয় অনেক বিক্রেতা। দারুচিনি কিছুক্ষণ হাতে মুঠো করে ধরে রাখুন এবং তারপর হাত দিয়ে কচলে নাকের কাছে নিন। দারুচিনি ভেজাল হয়ে থাকলে গন্ধ খুব হালকা হয়ে যাবে। দারুচিনি পানিতে ভিজিয়ে আঙুল দিয়ে ঘষে দেখুন, রঙ কৃত্রিম কি না তা বুঝতে পারবেন। দারুচিনি আসল কি না সেটা বোঝার আরেকটি উপায় হলো এর স্বাদ পরখ করে দেখা। সামান্য দারুচিনি ভেঙ্গে নিয়ে মুখে দিয়ে চিবিয়ে দেখুন। দারুচিনি আসল হলে এর স্বাদ হবে ঝাঁঝালো মিষ্টি।

সাদা ও কালো এলাচ: এলাচ একটি উপাদেয় খাদ্য। এর ভেষজ উপকার অনেক। সাদা বা কালো এলাচ থেকে রস বা নির্যাস বের করে নেয়া হয়েছে কি না, তা বোঝার উপায় হলো এলাচের খোসা খুলে ফেলা। নির্যাস আগে থেকেই বের করা হলে এর দানাগুলো একেবারে শুকনো হয়ে যায় এবং সেগুলো খোসার সাথে একদম লেগে থাকে। তাই এসব দেখে তারপরেই এলাচ কিনুন।

জিরা: আমাদের মসলার বাজারে মূলত জিরাতেই ভেজালের পরিমাণটা একটু বেশি থাকে। এটি রোদে শুকিয়ে বিক্রি করা হয় বলে নির্যাস বের করে নিলেও বোঝা যায় না। এক্ষেত্রে পরখ করতে হয় জিরার স্বাদ ও গন্ধ। দু’একটি জিরা মুখে দিয়ে চিবিয়ে দেখুন। আসল জিরা হলে এর স্বাদ হবে ঝাঁঝালো ও গন্ধ হবে তীব্র।

মরিচ গুঁড়া: মরিচের গুড়াতে ভেজাল হিসেবে মেশানো হয় ইটের গুঁড়াসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর দ্রব্যাদি। মরিচের গুঁড়া ভালো হলে তা হবে একেবারে ঝরঝরে। যেকোনো ধরনের ভেজাল মেশালে মরিচের এই ঝরঝরে ভাবটা আর থাকে না। ভিজে ভিজে লাগলে সে মরিচের গুঁড়া ব্যবহার না করাটাই সবচেয়ে ভালো।

হলুদ: হলুদের গুঁড়ো খুব সহজে হলুদ রং মেশানো ময়দা দিয়ে আলাদা করা যায়। এটি বুঝার জন্য হলুদের গুঁড়ো পানিতে মিশিয়ে নিন।আসল হলুদের রঙ হবে হলুদ অথবা কমলা রংয়ের। চামড়া হবে পাতলা, হলুদের গুঁড়ো দেখতে হবে উজ্জ্বল। হলুদের উপকারিতা অনেক তাই এটির সঠিক বাছাই গুরুত্বপূর্ণ।

লবঙ্গ: নাকফুলের মতো দেখতে লবঙ্গ একটি খুবই উপকারী মসলা। এর নির্যাস থেকেও তৈরি হয় বেশ কয়েক ধরনের ওষুধ। লবঙ্গ ঠিকঠাক আছে কি না তা বোঝার জন্য একটা লবঙ্গে নখ দিয়ে চাপ দিন। যদি একটুও তেল বের না হয় তাহলে বুঝবেন, লবঙ্গ থেকে নির্যাস আগেই বের করে নেয়া হয়েছে। আরেকটি কাজ করতে পারেন, লবঙ্গ চাপ দিয়ে ভাঙ্গার চেষ্টা করুন। লবঙ্গ যদি মট করে ভাঙ্গা না যায় তাহলেও বুঝে নেবেন এর আসল স্বাদ কমে গেছে।

আদা: আদার ব্যাবহার আমাদের প্রতিদিনের জীবনেই অনেক। আসল আদা দেখতে মসৃণ, শক্ত এবং এতে কোনও ভাঁজ পড়বে না। এবং এর চামড়া হবে পাতলা। আর যদি আদার চামড়া কুঁচকে থাকে তবে বুঝতে হবে এই আদাটি বাসি। বাসি আদায় আপনি আসল স্বাদ পাবেন না।

এইগুলো হলো আমাদের দৈনিক ব্যবহৃত মসলা যা আমরা নিয়মিত খেয়ে থাকি। আর এর গুনাগুন জানা থাকলেই কেবল আমরা আমাদের রান্নাকে সুস্বাদু ও স্বাস্থকর করতে পারব।

This Post Has 13 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!