fbpx
skip to Main Content
বাচ্চাকে বেশি বকাঝকা না করা

কুমার বাড়িতে আপনি গিয়েছেন কিনা, যখন কুমার তার মাটির খামি তৈরি করে তখন সেটা বেশ সফট এবং মোলায়াম থাকে। এই মাটি দিয়ে সে যেকোনো আকৃতির জিনিসপত্র বানাতে পারে। তেমনি ভাবে আমাদের বাচ্চাদের মন টাও কুমারের মাটির খামির মত নরম এবং কপি করার প্রবল আকর্ষণ থাকে। অর্থাৎ আপনি তার সামনে যা করবেন যা বলেন সে কিছুক্ষণ পর তাই রিপিট করবে এটাই বাচ্চাদের ন্যাচার।

তাই বাচ্চারা দুষ্টমি করলে তাকে বকা না দিয়ে তাকে বোঝাতে হবে । ছেলেমেয়ে যখন ছোট থাকে তখন তাদের বুদ্ধির পরিপক্কতা আসেনা তাই তারা দিনভর হরদম দুষ্টমি করতেই থাকে এবং এতে তারা টায়ার্ড হয়না কিন্তু যদি বলেন পড়তে বসো তখন দেখবেন বলবে ওয়াশরুমে যাব, পেট ব্যাথা, মাথা ব্যাথা ইত্যাদি ইত্যাদি। এই হাজার রকমের অজুহাতের সময় তাকে কোমল ভাবে বোঝাতে হবে। কেননা শিশুর মন খুবই নরম সে অল্পতে অনেক রেগে যায় আবার একটু পর ভুলেও যায়। কিন্তু যে জিনিস বারবার দেখে তা তার মধ্যে কপি হয়ে যায় এবং বড় হয়ে সে অভ্যেস তার মাঝে রয়ে যায়।

এই সকল সমস্যা সমাধানে আমরা কি করতে পারি।

শিশুর সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলুন। তাকে সময় দিন, অবশ্যই কোয়ালিটি টাইম। এই করোনাকালে বাইরে খেলতে যেতে পারছে না, স্কুলে যাচ্ছে না এজন্য তাদের মাঝে একধরনের একঘেয়েমিতা চলে এসেছে। বাসায় থাকতে থাকতে কথাও ঠিকমত শুনছেনা। তাই তাকে একটু করে বাহিরে ঘুরিয়ে নিয়ে আসুন এতে করে তার মস্তিষ্কের একঘেয়েমিতা কেটে যাবে ।

শিশুর সামনে চিৎকার চেচাঁমেচি করে বা রাগ প্রকাশ করা যাবে না। কারণ শিশুরা অনুকরণ করতে পছন্দ করে। সে যা দেখবে-যেমন দেখবে সেভাবেই গড়ে উঠবে। আর তাই শিশুকে সৃজনশীল কাজে বেশি ব্যস্ত রাখুন, ছোট বেলা থেকেই। সেটা গল্প শেখা হোক আর বাদ্যযন্ত্র বাজানোই হোক বা ছবি আঁকা।

বাচ্চার মুখে হঠাৎ কোনো খারাপ কথা শুনলে শুরুতেই তাকে বকা ঝকা করবেন না, তাকে সময় নিয়ে বোঝান। শিশুর জন্য ইনডোর গেমসের ব্যবস্থা করতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষ্য করবেন আপনার শিশু কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা পরিবেশ দেখলে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে কিনা, যদি এমন হয় তাহলে সচেতন হোন।

এভাবেই আস্তে আস্তে করে আপনি আপনার বাচ্চাকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুন। মনে রাখবেন আপনার প্রতিটা পদক্ষেপই আপনার সন্তান কপি করছে তাই বাচ্চাদের সামনে সকল কাজ বুঝে শুনে করতে হবে। এডাল্ট কথাবার্তাও বাচ্চাদের সামনে বলা যাবেনা এতে করে তাদের মনের উপর খারাপ পভাব ফেলবে। সুতরং আপনার সন্তানের ভুল শুধরে দিন তাকে না বকে এবং এটাই তার জন্য সঠিক উপায়।

This Post Has 9 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!