fbpx
skip to Main Content
সন্তানকে মিতব্যায়ি করে তুলুন

আপনি কি আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্ব জানেন? অল্প একটু ধারনা দেই, সেখানে বলা হয়েছে যদি একটা স্থীর বস্তুর তুলনায় চলমান একটি বস্তুর আকার কমে যায়। যেমন থেকে থাকা একটি বাস চলন্ত বাসের থেকে বড় মনে হয়। এভাবে সময়ের সাথেও একটা থিওরি আছে। আমরা আর সেদিকেন না যাই।

তত্ত্বটা এই কারনে বুঝালাম যে, উনিভার্সিটিতে যখন ছিলাম বন্ধু বান্ধবদের মাঝে টাকা পয়সার সংকটে বলত যে, যদি আইনস্টাইন থাকতো তার চার নাম্বার থিওরি হতো অভাবের সময় টাকার আপেক্ষিক মান বেড়ে যায়। মানে হলো আপনার কাছে যখন কম টাকা থাকবে তখনই কেবল তার মর্ম বুঝতে পারবেন ।

এবার আসুন মিতব্যয়ীতা কি জিনিস তা আমরা জানি এবং কেনই বা এটা আমাদের সন্তানদের মাঝে থাকা দরকার।

মিতব্যয়ীতা মানে ব্যয়ের ক্ষেত্রে সংযম-সতর্কতা অবলম্বন করা। কিংবা ‘আয় বুঝে ব্যয় করা’। ব্যয়ের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করাকেও মিতব্যয়ীতা বলা হয়। প্রতি বছর ৩১ অক্টোবর ‘বিশ্ব মিতব্যয়িতা দিবস’ পালন করা হয়।

মিতব্যয়ী হওয়া মানে কৃপণতা নয়। অনেকে মনে করেন মিতব্যয়ীতা এক ধরনের কৃপণতা বা মানসিক সমস্যা। কিন্তু না! মিতব্যয়ীতা একধরনের গুড প্রাকটিস। যেখানে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয় করা শিখতে হয় । এতে করে আপনার সম্পদের অপচয় ও হবেনা বরং বছর শেষে আপনার একটি সঞ্চয় হবে যা সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য দরকার।

এবার আসি আমাদের সন্তানদের কেন মিতব্যয়ী হতে হবে। কারন আমাদের সকল সুখের মূল হলো আমাদের সন্তান। তাই অনেক বাবা মা আছেন যারা সন্তান মুখ থেকে যা বলবে তাই হাজির করবে সামনে। এমনটা হলে কি হতে পারে আপনি কি ভেবে দেখেছেন?

এমন যদি হয় আপনার সন্তানের সকল চাহিদা বলার আগেই আপনি পূরণ করে দিচ্ছেন হোক সেটা প্রয়োজন কিংবা অপ্রয়োজন। এতে আপনার সন্তানের কর্ম দক্ষতা কমে যাবে। কথায় আছে “প্রয়োজন মানুষের কৌশল আবিষ্কার করে”। কথার মানে হলো আপনার যদি সকল প্রয়োজনই মিটে যায় আপনি তো আর কাজ করবেন না। আপনার সন্তানও তাই করবে। সে পড়াশোনা থেকে শুরু করে কোন কাজই সে করবেনা। কারন তার তো কাজ করার কোন প্রয়োজন নেই। এভাবেই দিনে দিনে সন্তান হয়ে ওঠে অকর্মন্য নাদান।

যদি আপনার সন্তান কে আপনি বোঝান যে, যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই পাবে আর বেশি প্রয়োজন হলে তাকে বেশি কাজ করতে হবে। হতে পারে সেটা ভাল কোন কিছুর আবদার করেছে , বলুন পরীক্ষায় ভাল করো এনে দেব। এতে তার ভেতরে কোন কিছু অর্জন করার একটা স্পৃহা কাজ করবে সে আরো মনোযোগী হবে।

এভাবেই আপনার সন্তান কে আস্তে আস্তে করে শেখাতে হবে কিভাবে অপচয় না করে মিতব্যয়ী জীবন যাপন করা যায়। মিতব্যয়ী জীবনে আছে এক শান্তি । অঢেল সম্পদের মালিক হয়েও যারা মিতব্যয়ীতার মধ্যে দিন কাটায় তারাই কেবল সুখী। কেননা তাদের কাছেই জীবনের মানে টা স্পষ্ট থাকে।

আপনি হয়তো আজকে রেস্টুরেন্টে দুপুরে খেয়েছেন তাতে বিল এসেছে প্রায় হাজার টাকারও বেশি। কিন্তু একজন মধ্য আয়ের মানুষের মিলরেট দেখুন পঞ্চাশ থেকে আশি টাকার মধ্যে। আর নিম্ন মধ্যবিত্তদের পঞ্চাশের মধ্যেই। যখন আপনার কাছে জীবনের সব কিছুই পাওয়া অনেক সহজ হবে তখন জীবনের মানেও তখন শেষ হয়ে যাবে। তাই আপনি ও আপনার সন্তানদের কিছু চাওয়া পাওয়া বাঁচিয়ে রাখুন এতে জীবনের আসল মানে বুঝতে পারবে । কঠিন বাস্তবতার মধ্যে গিয়েও হাল ছাড়বেনা। তাই সন্তানকে মিতব্যয়ী করে তুলুন।

This Post Has One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!